শুক্রবার এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও।

ভিডিও-র অংশ
শেষ আপডেট: 8 November 2025 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের এখনও একটা বড় অংশ পড়ুয়ার কাছে স্কুল যাওয়ার আসল আকর্ষণ - দুপুরের পেটভরা ভাত (Mid day meal)। তার টানেই ছুটে আসা স্কুলে, কোনওমতে টিফিন টাইমটুকু আসা পর্যন্ত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা। কিন্তু দেশের বহু অংশেই বাস্তব যে এখনও বেশ কঠিন, তার জ্বলন্ত উদাহরণ মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) শেওপুর।
এক সরকারি স্কুলে (Madhy Pradesh Gov school), টিফিন টাইমে সার দিয়ে মাটিতে বসে রয়েছে কচিকাঁচারা। সামনে কোনও প্লেট নেই, বরং ছেঁড়া কাগজের টুকরোর ওপরেই পরিবেশন করা হয়েছে খাবার (MP School serves Meals on Scrap Paper), তাই খেয়ে চলেছে তারা - শুক্রবার এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই ভিডিও দেখে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও।
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের শেওপুর জেলার বিজয়পুর ব্লকের হুলপুর গ্রামের এক স্কুলে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের পড়ুয়ারা খোলা প্রাঙ্গণে মাটিতে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, স্কুল প্রাঙ্গণে ছাউনি বা আশ্রয় ছাড়াই শিশুদের বসে খেতে হচ্ছে, যা স্কুল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও প্রশাসনিক ত্রুটির খুব স্পষ্ট এক প্রমাণ।
श्योपुर की तस्वीर है, मिड-डे मील रद्दी अखबार में परोसा जा रहा है
मिड-डे मील अब प्रधानमंत्री पोषण शक्ति निर्माण टाइप कुछ हो गया है 2023 बीजेपी ने घोषणापत्र में इसमें पौष्टिक भोजन देने की बात कही थी, पौष्टिक तो दिख रहा है फिलहाल परोसा कैसे जाए ये तय हो जाता @GargiRawat @manishndtv pic.twitter.com/ecrHIeLgu5— Anurag Dwary (@Anurag_Dwary) November 6, 2025
ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শেওপুর জেলার জেলা কালেক্টর অর্পিত বর্মা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (SDM) ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তদন্তের পর সরকারি সিদ্ধান্তে স্কুলটির দুপুরের খাবারের দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর চুক্তি বাতিল করা হয়। পাশাপাশি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।
ঘটনাটি নতুন করে তুলে ধরেছে প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ (PM Poshan) প্রকল্পের বাস্তবায়নের ফাঁকফোকর। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যই হল সরকারি ও অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ করা। কিন্তু শেওপুরের এই ঘটনা সেই লক্ষ্যকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর রাজ্যের মোট ৮৮,২৯৯টি স্কুলের মধ্যে ৮৭,৫৬৭টিতে দুপুরের খাবার বা মিড ডে মিল সরবরাহ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, অন্তত ৭৩২টি স্কুলে সেদিন কোনও খাবার সরবরাহ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার মিড ডে মিলের মানের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একইসঙ্গে পঞ্চায়েত, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং স্কুল শিক্ষা দফতর যৌথভাবে পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় টেট্রা-প্যাক দুধ ও অন্যান্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা করেছিল।
তবে এই সাম্প্রতিক ঘটনা দেখিয়ে দিল, বাস্তবের সঙ্গে প্রকল্পের সেই উদ্যোগের ফারাক ঠিক কতটা। যোজনার সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ওয়াকিবহাল মহলে।