গুজরাতের দাহোদ জেলা পঞ্চায়েতের উপনির্বাচনে ভরত সিং ভাখালা একইসঙ্গে তিনটি দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করেন। স্ক্রুটিনির পর ভরত সিং বিজেপি-কেই বেছে নেন এবং বাকি দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। আগে আপ ও কংগ্রেসের হয়ে হারার পর এবার বিজেপির টিকিটে ভাগ্য বদলাতে চান এই নেতা। ঘটনাটি নিয়ে সমাজমাধ্যমে যেমন রসিকতা চলছে, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
.jpeg.webp)
ভরত সিং ভাখালা
শেষ আপডেট: 13 April 2026 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট বড় বালাই! কিন্তু গুজরাতের দাহোড় জেলার রাজনীতিতে যা ঘটল, তা সম্ভবত ভারতের নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন। একই আসনে লড়াইয়ের জন্য দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ভারত সিং ভাখালা। বিজেপি, কংগ্রেস নাকি আম আদমি পার্টি— শেষ পর্যন্ত কার ঝাণ্ডা ধরবেন ভারত, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরে টানটান উত্তেজনা ছিল। অবশেষে সোমবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।
দাহোড় জেলা পঞ্চায়েতের পিপেরো আসনের উপনির্বাচনে নির্দল নয়, বরং তিনটি হেভিওয়েট দলের ‘অফিশিয়াল’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করেন ভারত সিং। ১০ এপ্রিল প্রথমে আম আদমি পার্টির (AAP) হয়ে এবং ১১ এপ্রিল আলাদাভাবে কংগ্রেস ও বিজেপি— দুই দলের হয়েই ফর্ম জমা দেন তিনি। ব্যালট পেপারে শেষ পর্যন্ত কার নাম থাকবে, তা নিয়ে কমিশন থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই ছিলেন ঘোর ধন্দ্বে।
মনোনয়ন নিয়ে কেন এই লুকোচুরি অবশেষে তা জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারত সিং আসলে নিজের জন্য ‘নিরাপদ’ জমি খুঁজছিলেন। অতীতে তিনি আম আদমি পার্টি এবং কংগ্রেস, দুই শিবিরের হয়েই ভোটে লড়েছিলেন, কিন্তু জয়ের স্বাদ পাননি। এবার তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। মনোনয়ন স্ক্রুটিনির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তিনটি দলের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছিলেন বলে খবর।
শেষমেশ জয়ী ‘পদ্ম’ শিবির। সোমবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন সকালেই দাহোড় জেলা বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত সিং জানিয়ে দেন, তিনি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের দলের হয়েই লড়বেন। বাকি দুই দলের মনোনয়ন তিনি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। দাহোড় জেলা বিজেপির সভাপতি স্নেহল ধারিয়া জানিয়েছেন, “ভারত সিং এখন আমাদেরই প্রার্থী। তাঁর মতন প্রভাবশালী নেতা দলে আসায় বিজেপির শক্তি আরও বাড়ল।”
এই ঘটনায় হাসির খোরাক হয়েছেন বিরোধীরা। একই প্রার্থীর পেছনে তিন দলের দৌড়ঝাঁপ নিয়ে হাসাহাসি থামছে না নেটপাড়ায়। স্থানীয় এক ভোটারের কথায়, “সকালে দেখলাম ঝাড়ু হাতে, দুপুরে হাতে হাত আর বিকেলে পদ্মফুল! এমন ‘অলরাউন্ডার’ নেতা আগে দেখিনি।” কংগ্রেস ও আপ শিবির অবশ্য এই ঘটনায় মুখ পুড়িয়ে এখন একে অপরকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত।
সব মিলিয়ে গুজরাতের এই ‘ত্রিমুখী’ নাটকের অবসান হলেও, ভারত সিং-এর এই ডিগবাজি কি পিপেরোর মানুষ ভালো মনে নেবেন? উত্তর মিলবে ভোটবাক্সেই।