বেতন বৃদ্ধি, ওভারটাইমের টাকা এবং ১২ ঘণ্টার বদলে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন। পুলিশের গাড়ি ও বেসরকারি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। হরিয়ানার তুলনায় উত্তরপ্রদেশে ন্যূনতম বেতন কম হওয়া নিয়ে ক্ষোভ। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ যোগী আদিত্যনাথের।
.jpeg.webp)
যোগী আদিত্যনাথ
শেষ আপডেট: 13 April 2026 19:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহের প্রথমদিন, সাতসকালে ধুন্ধুমার কাণ্ড উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় (Noida)। বেতন বৃদ্ধি এবং শ্রম আইনের সঠিক প্রয়োগের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন হাজার হাজার কারখানার শ্রমিক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে বিক্ষোভ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হল পুলিশকে। চলল পাথর বৃষ্টি, ভাঙচুর করা হল একের পর এক গাড়ি। এমনকি পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তেজিত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।
নয়ডার ফেজ-২ এলাকার হোসিয়ারি কমপ্লেক্স এবং সেক্টর ৮৪-র একাধিক টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক্স কারখানার শ্রমিকরা গত তিন দিন ধরে অবস্থান বিক্ষোভ করছিলেন। সোমবার সকালে সেই বিক্ষোভই চরম আকার নেয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চার-পাঁচজনের সংসার চালানো অসম্ভব। তাদের অভিযোগ, হরিয়ানা সরকার যেখানে ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে 'আনস্কিল্ড' কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি করেছে ১৫ হাজার ২২০ টাকা এবং মোটামুটি 'স্কিল' রয়েছে এমন কর্মীরা পাবেন, ১৬ হাজার ৭৮০ টাকা। সেখানে উত্তরপ্রদেশে সেটা এখনও ১৩ হাজারে আটকে রয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে হরিয়ানা সরকার ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়েছে ৩৫ শতাংশ।
বিক্ষোভকারী এক মহিলা শ্রমিকের কথায়, "১২ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনির পর মাসে মাত্র ১৩ হাজার টাকা হাতে পাই। রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ছে, বাড়িভাড়া বাড়ছে, কিন্তু আমাদের বেতন বাড়ছে মাত্র ২০০-৩০০ টাকা। এই টাকায় কি বাচ্চাদের পড়ানো সম্ভব, না পেট চালানো সম্ভব?" শুধু বেতন নয়, ওভারটাইমের পাওনা টাকা না দেওয়া এবং আট ঘণ্টার বদলে ১২ ঘণ্টা কাজ করানোর প্রতিবাদেও সরব হয়েছেন তারা। তাদের আরও অভিযোগ, সঠিক সময়ে খাওয়া দেওয়া হয় না তাদের। পাশপাশি, বিক্ষোভে উঠে এসেছে নারী সুরক্ষার প্রশ্নও।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে নয়ডা পুলিশকে পদক্ষেপ করতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ নামানো হয় এই এলাকায়। পুলিশের দাবি, লাঠির আঘাতে এক মহিলা কর্মীর আহত হওয়ার গুজব ছড়াতেই আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠেন অবস্থানরত শ্রমিকরা। শুরু হয় পাথর বৃষ্টি। বেশ কিছু বেসরকারি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি একটি পুলিশের ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পালটা কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে এবং লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ।
গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। এই ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, সেই সমস্ত অসামাজিক লোকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাশাপাশি প্রশাসনের আশ্বাস দিয়েছে শ্রমিকদের। হিংসার আবহেও পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলাশাসক (DM) মেধা রূপম শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, শ্রমিকদের ওভারটাইমের জন্য দ্বিগুণ টাকা দেওয়া হবে এবং মাসে বাধ্যতামূলক সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। তবে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় চাপা উত্তেজনা রয়েই গিয়েছে নয়ডার শিল্পাঞ্চল।