
লালুপ্রসাদ যাদব ও প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 13 November 2024 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর দেড়েক আগে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। বয়সজনিত আরও নানা শারীরিক সমস্যাও তো আছেই। চিকিৎসকদের কড়া নির্দেশ, বাড়ি থেকে বের হবেন না। ডাক্তারদের পরামর্শের তোয়াক্কা না করে শেষে বিহারে চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে প্রচার করেছেন রুগ্ন লালুপ্রসাদ যাদব।
রাজনৈতিক মহল বলছে, লালুর এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ একদা তাঁর ভোট পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরকে ভোটের ময়দানে পয়লা রাউন্ডেই মোকাবিলা করা। আর সেটাই হয়ে গিয়েছে প্রশান্তের নতুন দলের জন্য বিরাট বড় সার্টিফিকেট।
ভোট কুশলী প্রশান্ত টানা দু’ বছর বিহার জুড়ে পদযাত্রা করার পর তৈরি করেছেন তাঁর জন সুরাজ পার্টি। দল নিয়ে প্রশান্তের ঘোষণা এবং পার্টির প্রচারে স্পষ্ট লালুপ্রসাদের পাশাপাশি নীতীশ কুমারও তাঁর টার্গেট। রাজনৈতিক মহল গোড়া থেকেই বলছে, প্রশান্তের দল আসলে বিজেপির বি-টিম।
তবে পার্টি গঠনের পর দলের প্রথম ভোট-পরীক্ষায় ফল প্রকাশের আগেই প্রশান্ত বিরোধীদের মর্যাদা আদায় করে নিয়েছেন। বুধবার বিহারে বিধানসভার যে চার কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে, সেই রামগড়, তাড়ারি, বেলাগঞ্জ ও ইমামগঞ্জে লড়াইয়ে আছে প্রশান্তের পার্টি। ফলে লড়াই হচ্ছে ত্রিমুখী। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র শরিক নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড লড়াই করছে দুটি আসনে। বাকি দুটিতে পদ্ম শিবির। অন্যদিকে, চার আসনের তিনটিতে লড়ছে ইন্ডিয়া জোটের শরিক আরজেডি, একটিতে সিপিআইএমএল-লিবারেশন।
এরমধ্যে বেলাগঞ্জ নিয়ে লালুপ্রসাদ, তাঁর পরিবার এবং দলের ঘুম ছুটেছে। তাই গত সোমবার সেখানে অসুস্থ শরীরে দিনভর প্রচার করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি সুপ্রিমো। হাতজোড় করে বলেছেন, ‘অনুগ্রহ করে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করবেন না। বিজেপির পরামর্শে এখানে মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে একটি দল। উদ্দেশ্য আরজেজির মুসলিম ভোটে ভাগ বসানো।’ নাম না করলেন বুঝতে বাকি থাকেনি লালুপ্রসাদ নিশানা করেন প্রশান্ত কিশোরের সদ্য জন্ম নেওয়া দল জন সুরাজ পার্টিকে।
দল গঠনের সময়ই প্রশান্ত ঘোষণা করেছিলেন তিনি মুসলিমদের বেশি করে প্রার্থী করবেন। বেলাগঞ্জে তাঁর দলের প্রার্থী মহম্মদ আমজাদ চেনা মুখ। দু’বার বিধানসভা ভোটে হারলেও ৫০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। আরজেডির আশঙ্কা, তাদের মুসলিম ভোটে থাবা বসাতেই আমজাদকে প্রার্থী করেছেন প্রশান্ত। আমজাদের প্রচার দেখে সেই শঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ফলে লালুপ্রসাদকে গিয়ে মুসলিমদের বলতে হয়েছে, ‘আমার সঙ্গে বেমাইমি করবেন না। আমি বাকিদের মতো বেইমানি করে বিজেপির হাত ধরিনি।’
আরজেডি-কে চাপে রেখেছে দলের যাদব ভোট ব্যাঙ্কও। নীতীশের দল বেলাগঞ্জে প্রার্থী করেছে যাদব পরিবারের সদস্য মনোরমা দেবীকে। তিনিও স্থানীয় বাসিন্দা। ফলে তিনি যাদবদের ভোট পাবেন আশঙ্কা আরজেডি নেতাদের।
আসলে বেলাগঞ্জ হল আরজেডির এম-ওয়াই বা মুসলিম-যাদব ভোট ব্যাঙ্কের মডেল বলা চলে। সেখানে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী বিশ্বনাথ কুমার সিং যাদবদের নেতা। তিনি জাহানাবাদের আরজেডি সাংসদ সুরেন্দ্র যাদবেব পুত্র। সুরেন্দ বেলাগঞ্জের আটবারের প্রাক্তন বিধায়ক।
স্বভাবতই বেলাগঞ্জ হাতছাড়া হয়ে গেলে মুসলিম-যাগদবেরা লালুপ্রসাদের থেকে মুখ ফেরাচ্ছে বলে বার্তা যাবে। বিরোধীরাও জোরদার প্রচার শুরু করে দেবে। ঠিক এক বছর পর বিহার বিধানসভার ভোট। এই পরিস্থিতিতে লালু দলের দুর্গ বাঁচাতে পুরোপুরি পুত্র তেজস্বীর উপর ভরসা করেননি। অসুস্থ শরীরে ছুটেছেন বেলাগঞ্জ।
বাকি তিন আসনেও লালুর ভিডিও ভাষণ প্রচার করেছে আরজেডি। কারণ আসলে প্রশান্ত কিশোর। অন্তত, চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রচার দেখে রাজনৈতক মহল মনে করছে ভোট কুশলী প্রশান্ত পয়লা রাউন্ডে প্রমাণ করেছেন তাঁকে উপেক্ষা করা যাবে না। প্রার্থী বাছাই করেছেন অনেক অঙ্ক কষে। যা দেখে সব দলই চিন্তায়।