দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে রানওয়ে ২৩ থেকে টেক অফ করেছিল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 13 June 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার ঠিক ৩২ সেকেন্ড পরই মাটিতে আছড়ে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI-171। লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা হয়। বিস্ফোরনে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিমান ভেঙে পড়ছে এবং বিস্ফোরণে আগুন লেগে যেতে পারে বাড়িতে, এই দেখে বিমানবন্দর চত্বরের অনেকেই বৃহস্পতিবার লাফ দিয়ে নীচের তলায় এসেছিলেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চোখে-মুখে তাঁদের আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।
দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে রানওয়ে ২৩ থেকে টেক অফ করেছিল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি। মাত্র দু'মিনিটের মধ্যেই আনুমানিক ১টা ৪০ নাগাদ বিমানের উচ্চতা হঠাৎ কমতে শুরু করে এবং সোজা গিয়ে ধাক্কা মারে মেঘানীনগর এলাকার একটি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। আকাশ ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়। শুরু হয় ছোটাছুটি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই জানিয়েছেন,আগুন এড়াতে বাড়ির উপরের তলা থেকে অনেকে নীচে ঝাঁপ পর্যন্ত দেন। স্থানীয় বাসিন্দা রমিলা কান্নায় ভেঙে পড়েন সংবাদমাধ্যমের সামনে। বলেন, 'আমার ছেলে হস্টেলে লাঞ্চ করতে গিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম, সব শেষ। কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় সে দ্বিতীয় তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে কোনও রকমে বেঁচে গেছে। সামান্য আঘাত লেগেছে।'
বিমানটিতে ছিলেন মোট ২৪২ জন। ২৩০ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু সদস্য। এদের মধ্যে অধিকাংশই ভারতীয় হলেও ছিলেন ব্রিটিশ, পর্তুগিজ এবং কানাডার নাগরিকরাও। সূত্রের খবর, বিমানের টায়ার রিট্র্যাকশন বা টায়ার গুটিয়ে নেওয়ার সময় প্রযুক্তিগত গোলযোগ হয় আর তার ফলেই দুর্ঘটনা হয়। উড়ান শুরুর পর টায়ার ঠিকমতো গুটোতে পারেনি। ফলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বাড়িতে ধাক্কা মারে। পরে ‘আতুল্যম’ নামের একটি হস্টেলের বিল্ডিংয়ে মধ্যে ঢুকে পড়ে।
বিমানটির পিছনের অংশ প্রথম ধাক্কায় আলাদা হয়ে যায়। ডানাও সজোরে ধাক্কা মারে ওই হস্টেলের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায়। সেসময় হস্টেলের ক্যান্টিনে জুনিয়র ডাক্তাররা খাচ্ছিলেন। অনেকেই প্রাণ হারান। আহত একাধিক। বাড়িটির অবস্থা এই দুর্ঘটনার পর এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে সেটি যেকোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছল গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার নির্দেশ দেন সঙ্গে সঙ্গে। বলেন, 'এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সমস্ত দফতরকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাতে বলা হয়েছে।'
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-কে ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে চালু করা হয় হেল্পলাইন নম্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে গুজরাত সরকার রাজ্য ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারে একটি কন্ট্রোল রুম খোলার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমানে দেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বিজে মেডিক্যাল কলেজে। ডিএনএ সংগ্রহ করা হচ্ছে মৃতের পরিজনদের।