
শেষ আপডেট: 8 March 2024 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের আগে ফের এক বড় চমক। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ইনফোসিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন সুধা মূর্তিকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টুইটে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, সামাজিক, মানবিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুধাজির অসামান্য অবদান রয়েছে। রাজ্যসভায় তাঁর উপস্থিতি নারী শক্তির প্রতি এক সাক্ষ্যবহন করবে। জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে নারীদের শক্তি এবং দক্ষতার পরিচয়বাহক হবে তাঁর উপস্থিতি।
উল্লেখ্য, ৭৩ বছর বয়সি সুধা মূর্তিকে ২০০৬ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০২৩ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছিল সরকার। ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তির স্ত্রী সুধা মূর্তি হলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকের শাশুড়ি।
২০১১ সালে কন্নড় সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য আর কে নারায়ণ পুরস্কার পেয়েছিলেন। মূর্তির জন্ম ১৯৫০ সালে উত্তর কর্নাটকের হাভেরি জেলার শিগ্গাঁওয়ে। বাবা আর এইচ কুলকার্নি ছিলেন সার্জন এবং মা বিমলা কুলকার্নি ছিলেন শিক্ষিকা। ব্রাহ্মণ পরিবারের কন্যা মূর্তি বিভিবি কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন প্রথম স্থানে। নারায়ণ মূর্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় ১৯৭৮ সালে। কন্যা অক্ষতা মূর্তি হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সুনকের স্ত্রী। কর্নাটকে ৬০ হাজারের বেশি গ্রন্থাগার নির্মাণ করেছেন।
নারী দিবসে হলেও এবং সুধা মূর্তির বিশিষ্ট ও স্বাধীন পরিচয় সত্ত্বেও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে লোকসভা ভোটের মুখে তাঁর রাজ্যসভার সদস্যপদে মনোনয়ন নিয়ে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হিন্দি বলয়ে বিজেপি পদ্ম ফোটাতে পারলেও এখনও পর্যন্ত তাদের দাক্ষিণাত্য অভিযান ব্যর্থ থেকে গিয়েছে। বিশেষত গতবছর কর্নাটক বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের কাছে গোহারা হয়েছে বিজেপি।
এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপি দক্ষিণ ভারতকে টার্গেট করে এগোচ্ছে। তার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানায় খাতা খুলতে পারলেও কেরল ও কর্নাটক নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পদ্ম নেতৃত্ব। বিশেষ করে কর্নাটকে পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারছে না দিল্লির নেতৃত্ব। সুধা মূর্তি কর্নাটকসহ দক্ষিণ ভারতে একটি পরিচিত নামই শুধু নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও তাঁর মানবিক কাজকর্মের কারণে অতি পরিচিত মুখ। এছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ব্রিটেন-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও অনেক চওড়া হওয়ার আশা করা যায়। সর্বোপরি ইনফোসিসের মালকিন হওয়ায় অগাধ সম্পত্তি রয়েছে তাঁদের পরিবারে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ ভারতীয় রাজনীতিতে মূর্তির পরিচ্ছন্ন, সর্বজনগ্রাহ্য, আন্তরিক 'মূর্তি'কে তুলে ধরে ভোটের মুখে চমক দেওয়ার চেষ্টা বলে রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই মত।