
পাকিস্তানের তরুণীকে বাঁচালেন ভারতের চিকিৎসকরা।
শেষ আপডেট: 25 April 2024 07:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্তের বেড়াজাল সেখানে বাধা নয়। দুই দেশের সম্পর্কও অন্তরায় হয়নি। তাই পাকিস্তানের তরুণীর প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ভারতের চিকিৎসকরা। অঙ্গদানের নজির তৈরি হয়েছে সীমান্ত পার করেও। ভারতের ‘হৃদয়’ পেয়ে প্রাণ বেঁচেছে পাকিস্তানের আয়েশা রাশানের।
১৯ বছরের আয়েশা সেই ২০১৪ সাল থেকেই হার্টের নানা রোগে ভুগছিলেন। একসময় হৃদয়ের ছন্দও বিগড়ে যেতে থাকে। হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট করার প্রয়োজন হয়। কৃত্রিম হার্ট পাম্প লাগিয়েও কাজ হয়নি। আয়েশার পরিবার তখন যোগাযোগ করে চেন্নাইয়ের এমজিএম হেলথকেয়ার হাসপাতালের সঙ্গে। হাসপাতালের ডিরেক্টর ডা. কেআর বালাকৃষ্ণাণ, কো-ডিরেক্টর ডা. সুরেশ রাও আয়েশাকে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য চেন্নাইতে ডেকে পাঠান।
আয়েশার জন্ম ভারতে হলেও বেড়ে ওঠা করাচিতে। তাঁর পরিবার জানাচ্ছে, চেন্নাইয়ের হাসপাতালে কিছুদিন ইকমো সাপোর্টে রাখা হয় আয়েশাকে। ইকমো হল ‘একস্ট্রা কর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন’ (ECMO) পদ্ধতি। একে ‘একস্ট্রা কর্পোরিয়াল লাইফ সাপোর্ট’-ও (ECLS) বলা হয়। হার্ট ও ফুসফুসের রোগে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করেন ডাক্তাররা। শ্বাসপ্রশ্বাসে যখন স্বাভাবিক ভাবে অক্সিজেন ঢুকতে পারে না শরীরে, ভেন্টিলেটরের মতো যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কাজ হয় না, তখন কৃত্রিম ভাবে এই পদ্ধতিতে শরীরে অক্সিজেন ঢোকানো হয়। সাধারণত হাইপোক্সেমিক রেসপিরেটোরি ফেইলিওরের রোগীদের এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়।
ডাক্তারবাবুরা জানান, আয়েশার একটি ভালভ ফুটো হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এরপরে হাসপাতালের চেষ্টাতেই হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা করা হয়। দিল্লি থেকে হার্ট আনা হয় এবং সফলভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়। এই গোটা প্রক্রিয়ায় খরচ পড়ত প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু আয়েশার পারিবারিক পরিস্থিতি দেখে চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের অপারেশন করেন।
অঙ্গদানের নজির বারে বারেই তৈরি হয়েছে দেশে। করোনার সময়েও শত বাধাবিঘ্ন পেরিয়েও অঙ্গদানের নজির তৈরি হয়েছিল দেশে। তবে সীমান্ত পেরিয়ে এমন বেনজির ঘটনা আগে কমই ঘটেছে। আয়েশার পরিবার জানিয়েছে, ভারতের ডাক্তারবাবুরা তাঁদের কাছে ভগবানের মতো ছিলেন। যে মেয়ের জীবনের আশা একটু একটু করে ফুরিয়ে আসছিল, সেই মেয়েকেই নতুন হৃদয় দিয়ে পুনর্জীবন দিয়েছেন তাঁরা।