তাঁর মন্ত্রিত্বে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত এসেছে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের এক বিশেষ বৈঠকের পরে। প্রসঙ্গত, কোকাটে অজিত পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি গোষ্ঠীর নেতা।

মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী মানিকরাও কোকাটে
শেষ আপডেট: 1 August 2025 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়া মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী মানিকরাও কোকাটেকে সরানো হল কৃষি দফতর থেকে। তাঁর পরিবর্তে কৃষি মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দত্তাত্রয় ভারাণেকে। কোকাটেকে দেওয়া হল ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের দায়িত্ব।
তাঁর মন্ত্রিত্বে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত এসেছে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের এক বিশেষ বৈঠকের পরে। প্রসঙ্গত, কোকাটে অজিত পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি গোষ্ঠীর নেতা।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্র বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন কোকাটেকে মোবাইলে অনলাইন কার্ড গেম খেলছিলেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। যদিও কোকাটে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি কোনও রামি খেলছিলেন না। শুধুমাত্র একটি পপ-আপ বিজ্ঞাপন বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি পদত্যাগ করবেন বলেও দাবি করেন।
অনেকে বলছেন, শুধু মোবাইলে গেম খেলার অভিযোগ নয়, তার আগেই কোকাটের একাধিক মন্তব্যে চটেছেন মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ। কিছু মাস আগে কৃষকদের ফসল বিমা নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'আজকাল ভিখারিরাও এক টাকায় কিছু নেয় না। অথচ আমরা কৃষকদের এক টাকায় বিমা দিয়েছিলাম। অনেকেই এই প্রকল্পের অপব্যবহার করেছে।' এই মন্তব্যে তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। পরে অবশ্য সাফাই দিয়ে বলেন, 'সরকার কৃষকদের থেকে এক টাকা নেয়, কিন্তু কৃষকদের এক টাকাও দেয় না। সরকারই তো ভিখারি, কৃষক নয়। আমার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।'
এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, সরকার যে টাকা কৃষকদের প্রকল্পে দেয়, তা মূলত বিয়ে বা বাগদানের মতো অনুষ্ঠানে খরচ হয়। 'কৃষকরা ৫-১০ বছর ঋণ শোধ করেন না, ছাড়ের অপেক্ষায় থাকেন। কৃষি প্রকল্পের টাকা চাষে না লাগিয়ে অন্য খাতে চলে যায়। ওঁরা এক টাকাও চাষে বিনিয়োগ করেন না।'
এ বছর জানুয়ারিতে কোকাটে স্বীকার করেন, সরকারি প্রকল্পে কিছুটা দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু তাতে প্রকল্প বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন 'প্রকল্পে কিছু অনিয়ম হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ২-৪ শতাংশ দুর্নীতি হলেই কি প্রকল্প বন্ধ করে দিতে হবে?'
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে মানিকরাও কোকাটে ও তাঁর ভাই সুনীল কোকাটেকে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে সরকারি কোটা থেকে ভুয়ো নথি দিয়ে ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগে নাসিক আদালত দু’বছরের কারাদণ্ড দেয়। সব মিলিয়ে কোকাটের বিরুদ্ধে বিতর্কের পাহাড় জমতে থাকায় কড়া পদক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ। মঙ্গলবার তিনি তাঁর সমস্ত মন্ত্রীদের স্পষ্ট বার্তা দেন, 'বারবার এমন বিতর্ক তৈরি হলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এটা শেষ সুযোগ। ভবিষ্যতে এমন হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।'
মহারাষ্ট্রের মহাযুতি সরকারের কাছে কৃষকদের আস্থা অর্জন সবসময়ই অগ্রাধিকারের বিষয়। অথচ মারাঠওয়াড়া-সহ একাধিক অঞ্চলে কম এমএসপি, ক্ষতিপূরণে বিলম্ব ও ঋণ সংক্রান্ত সমস্যায় কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কোকাটের মন্তব্য ও বিতর্ক সরকারকে আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে তা বলা বাহুল্য। তাই সরকারের এই পদক্ষেপ খুব একটা আশ্চর্যের নয়।