ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

অনিল আম্বানি
শেষ আপডেট: 1 August 2025 08:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি-সংক্রান্ত মামলায় রিলায়্যান্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানিকে আগামী ৫ অগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে ইডি।
সম্প্রতি ইডির তরফে অনিল আম্বানি-ঘনিষ্ঠ কিছু সংস্থার একাধিক অফিস ও স্থানে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কম্পিউটার হার্ডড্রাইভ সহ বিভিন্ন জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
দিল্লি ও মুম্বইয়ে এই অভিযান শুরু হয় ২৪ জুলাই, যা অন্তত তিন দিন ধরে চলে। পিএমএলএ (PMLA)-র আওতায় করা এই তল্লাশি চালানো হয় প্রায় ৫০টি সংস্থা ও ২৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনিল আমবানি গোষ্ঠীর বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্তা। ২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি।
কেন তলব অনিল আম্বানিকে?
সূত্রের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক (Yes Bank) রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থাকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়। সেই ঋণের অর্থ অবৈধভাবে অন্যত্র সরানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ইডির মতে, ঋণের অনুমোদনের আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রোমোটারদের ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলিতে বিপুল ঘুষের টাকা ঢুকেছিল। সংস্থাগুলি ও ব্যাঙ্কের মধ্যে ‘ঘুষের যোগ’ রয়েছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখছে ইডি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একাধিক ঋণ সংস্থা একই ডিরেক্টরের অধীনে চলত, অনেকেরই অফিস ঠিকানা ছিল এক, যাঁদের আর্থিক ভিত্তি যাচাই করা হয়নি। ঋণ মঞ্জুরের সময় প্রয়োজনীয় নথিও ছিল না অনেক ক্ষেত্রে। এছাড়া, নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো ঋণ শোধ করার মতো ‘লোন এভারগ্রিনিং’-এর একাধিক প্রমাণ মিলেছে।
রিলায়্যান্স পাওয়ার ও রিলায়্যান্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ২৬ জুলাই স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে, ইডির এই তল্লাশি তাঁদের ব্যবসা, কর্মী, শেয়ারহোল্ডার বা আর্থিক কার্যক্রমে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
ইডিকে রিপোর্ট দিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI), ন্যাশনাল হাউসিং ব্যাঙ্ক (NHB), ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি (NFRA), এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদা। SEBI-র রিপোর্টে রিলায়্যান্স হোম ফাইনান্স (RHFL)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়েছে, FY 2017-18 সালে RHFL-এর কর্পোরেট ঋণ ছিল ৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা, যা FY 2018-19-এ বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৬৭০ কোটিতে।
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) ইতিমধ্যেই অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থা রিলায়্যান্স কমিউনিকেশন্স (RCom)-কে ‘জালিয়াত অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই অভিযোগ নতুন নয়। নভেম্বর ২০২০-তেই এসবিআই এই ঘোষণা করে এবং জানুয়ারি ২০২১-এ সিবিআইয়ে অভিযোগ দায়ের করে। তবে দিল্লি হাই কোর্ট পরে ‘স্ট্যাটাস কো’-র নির্দেশ দিলে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়।