দিব্যা বলেন, শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পরই তিনি স্বামীর খারাপ অভ্যাসগুলি সম্পর্কে জানতে পারেন। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। গালিগালাজ, মারধর, পণের জন্য চাপ- রোজকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

রাজ্যপালের নাতির বিরুদ্ধে অভিযোগ
শেষ আপডেট: 4 December 2025 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পণের দাবিতে নির্যাতন (Dowry harassment), খুনের চেষ্টা- কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলটের নাতি দেবেন্দ্রর (Devendra Gehlot) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তাঁর স্ত্রী দিব্যা গেহলটের (Divya Gehlot case)। এমনকি তাঁদের চার বছরের মেয়েকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের রতলামের এসপি অমিত কুমারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন দিব্যা।
দিব্যার অভিযোগ, তাঁর স্বামী দেবেন্দ্র (৩৩), শ্বশুর প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র গেহলট (৫৫), দেওর বিশাল গেহলট (২৫) এবং ঠাকুমাশাশুড়ি অনিতা গেহলট (৬০) ৫০ লক্ষ টাকা পণের জন্য বছরের পর বছর ধরে অত্যাচার করছেন। তাঁর দাবি, বিয়ের আগে স্বামীর (Karnataka Governor grandson) মদ্যপান, মাদকাসক্তি এবং একাধিক বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছিল।
২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর (Madhya Pradesh CM) কন্যাদান যোজনার অধীনে দেবেন্দ্র ও দিব্যার বিয়ে হয়। তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কর্নাটকের বর্তমান রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলট এবং প্রাক্তন লোকসভা অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজনের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান হয়েছিল।
দিব্যা বলেন, শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পরই তিনি স্বামীর খারাপ অভ্যাসগুলি সম্পর্কে জানতে পারেন। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। গালিগালাজ, মারধর, পণের জন্য চাপ- রোজকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি ২০২১ সালে তিনি যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, সেইসময়েও তাঁকে খেতে দেওয়া হত না, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ।
গত ২৬ জানুয়ারির রাতে তাঁর সঙ্গে সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন দিব্যা। অভিযোগ, সেদিন দেবেন্দ্র নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফিরে এসে তাঁকে মারধর করতে করতে বলেন, “আজ টাকা না আনলে তোকে মেরে ফেলব।” দিব্যার দাবি, এরপরই তাঁকে টেনে হিঁচড়ে ছাদে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। নীচের বারান্দায় পড়ে তাঁর শিরদাঁড়া, কাঁধ ও কোমরে গুরুতর চোট লাগে। এরপর কয়েক ঘণ্টায় সামান্য চিকিৎসা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
পরদিন অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি বাড়ির কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি দেখে তাঁকে ইন্দোরের বোম্বে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দিব্যার অভিযোগ, প্রথমে তাঁর বাবা-মাকে ঘটনাটি জানানো হয়নি কিন্তু পরে তাঁকেই (দিব্যার বাবাকে) চিকিৎসার খরচ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
দিব্যার সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা, তাঁর চার বছরের মেয়েকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মেয়েকে জোর করে আটকে রেখেছে। গত নভেম্বর মাসে স্কুলে গিয়ে মেয়েকে দেখার চেষ্টা করলে স্বামী তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, "বাড়ি থেকে টাকা না আনলে মেয়েকে দেখতে পাবেন না।"
দিব্যা প্রথমে রতলামের এসপির কাছে অভিযোগ জানান (Ratlam police complaint)। কিন্তু ঘটনা উজ্জয়েনের জেলায় হওয়ায় তাঁকে সেখানকার আইজি ও এসপির কাছে অভিযোগ পাঠাতে বলা হয়। রতলাম পুলিশ আবেদন গ্রহণ করে নিয়ম অনুযায়ী ফরওয়ার্ড করেছে।
পুত্রবধূর অভিযোগ নিয়ে জিতেন্দ্র গেহলট তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, "অভিযোগ তো যে কেউই করতে পারে। সময়ের অপেক্ষা। সমস্ত তথ্য মিডিয়ার সামনে আনব।"