অভিযুক্ত ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করল পুলিশ
শেষ আপডেট: 18 December 2024 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষিকাদের বাথরুমে বাল্বের হোল্ডারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ছিল গোপন ক্যামেরা। প্রতি মুহূর্তে কারা সেখানে যাচ্ছেন, কী করছেন সবকিছুর উপর লুকিয়ে নজর রাখতেন স্কুলের ডিরেক্টর। কিন্তু দীর্ঘদিন এভাবে চালিয়ে গেলেও আচমকা হাটে হাঁড়ি ভাঙবে তা কে জানত! বিষয়টি সামনে আসতেই হইচই পড়েছে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, নয়ডার বেসরকারি একটি প্লে স্কুলে এমন কাণ্ড ঘটেছে। ফেজ-৩ থানা এলাকার ওই স্কুলে ২৪ ঘণ্টাই নাকি অন থাকত স্পাই ক্যাম। শিক্ষিকারা বাথরুমে গেলে ফোন বা ল্যাপটপে বিষয়টি দেখতেন ডিরেক্টর।
জানা গেছে, বহুদিন বিষয়টি চললেও সোমবার ওই প্লে স্কুলের এক শিক্ষিকার পুরো বিষয়টি নজরে আসে। বাথরুমে যেতেই তিনি আচমকা বাল্বটিতে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। তারপরই সোজা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশকে জানান, ১০ ডিসেম্বর তিনি স্কুলের শৌচাগারে গেলে বাল্ব হোল্ডারে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পান। সেখানে একটি স্পাই ক্যামেরা লাগানো ছিল। স্কুলের ডিরেক্টরকে এই বিষয়ে জানালে তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে খটকা লাগে শিক্ষিকার। পরে স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে তিনি কথা বলে জানতে পারেন ডিরেক্টর নিজেই ওই ক্যামেরা বসিয়েছেন।
পুলিশি জেরার মুখে পড়ে অভিযুক্ত ডিরেক্টর জানান, তিনি একটি ভাড়া করা ঘরে প্লে স্কুল চালাতেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে স্কুলটি শুরু করেছিলেন। ২২০০ টাকা খরচ করে অনলাইনে একটি গোপন ক্যামেরা অর্ডার করেছিলেন। পরে শিক্ষিকদের জন্য তৈরি করা বাথরুমের বাল্ব হোল্ডারে সেই গোপন ক্যামেরা লাগিয়েছিল সে।
অভিযোগকারিণীর দাবি, এর আগেও স্কুলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিকবার গোপন ক্যামেরা উদ্ধার হয়। কিন্তু বাথরুমের ভিতরে যে নজরদারির নামে যে কুকর্ম করতেন ডিরেক্টর তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় দায়ের হয়েছে মামলা।
যোগীরাজ্যে এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত নভেম্বর মাসেই উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রের একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রীদের বাথরুমের কাছে গোপন ক্যামেরা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তারপর একমাস কাটতে না কাটতেই ফের উত্তরপ্রদেশে একই ঘটনা ঘটল।