Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
শয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্য

বাঙালির বুদ্ধিতেই জন্ম বাটার চিকেনের, জন্মরহস্য নিয়ে মামলা দিল্লি হাইকোর্টে

প্রকৃত উদ্ভাবক কে, রাজধানীর দুই সুপ্রাচীন রেস্তরাঁর দ্বন্দ্বযুদ্ধ আদালতে

বাঙালির বুদ্ধিতেই জন্ম বাটার চিকেনের, জন্মরহস্য নিয়ে মামলা দিল্লি হাইকোর্টে

বাটার চিকেন (বাঁদিকে) ও ডাল মাখানি (ডানদিকে)

শেষ আপডেট: 27 March 2024 15:17

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রসগোল্লার জন্মস্থানের মতো 'বাটার চিকেন' ও 'ডাল মাখানি'র জন্মদাতার বিতর্ক গড়াল দিল্লি হাইকোর্টের কাঠগড়ায়। দিল্লির সু্প্রাচীন দুই রেস্তরাঁ এই দুই পদের জন্ম দিয়েছে বলে দাবি তুলেছে। একটির নাম সুবিখ্যাত মোতি মহল এবং অপরটি হল ঐতিহ্যমণ্ডিত দরিয়াগঞ্জ রেস্তরাঁ। ভারত ছাড়া বিদেশেও এই দুই রেস্তরাঁর শাখা ছড়িয়ে আছে। বিতর্কের সূত্রপাত বাটার চিকেন এবং ডাল মাখানির উদ্ভাবক কারা! যার মীমাংসায় আদালতের চৌকাঠে পৌঁছে গিয়েছে দুই রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ।

 দিল্লি হাইকোর্টে এই মর্মে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে দরিয়াগঞ্জ রেস্তরাঁ। অভিযোগ, মোতি মহল রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ একটি সাক্ষাৎকারে বাটার চিকেন এবং ডাল মাখানি পদ দুটির উদ্ভাবন করেছেন তাঁদের পূর্বসূরি প্রয়াত কুন্দনলাল গুজরাল, এমনটা দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, সাক্ষাৎকারে এও বলা হয়েছে, দরিয়াগঞ্জ রেস্তরাঁ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ও ভুল বোঝাতে এটাকে তাদের আবিষ্কার বলে চালাতে চাইছে।

 বিচারপতি সঞ্জীব নারুলা মোতি মহলের মালিকদের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে একটি হলফনামা জমা দিতে বলেছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে মোতি মহলের বক্তব্যকে অবমাননাকর বলে অভিযোগ জানিয়েছে দরিয়াগঞ্জ রেস্তরাঁ। সাক্ষাৎকারটি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ায় তাদের সম্মানহানি হয়েছে বলে মনে করে দরিয়াগঞ্জ।

মোতি মহলের মালিকরাও আর্জি জানিয়েছেন, দরিয়াগঞ্জ কর্তৃপক্ষ যাতে তাদের পূর্বসূরি প্রয়াত কুন্দনলাল জাগ্গি বিশ্ববিখ্যাত পদ বাটার চিকেন ও ডাল মাখানির সৃষ্টিকর্তা, এমন প্রচার বন্ধ করেন। দরিয়াগঞ্জের ওয়েবসাইট থেকে ট্যাগলাইন 'বাই দি ইনভেন্টর্স অফ বাটার চিকেন অ্যান্ড ডাল মাখানি' লেখাটা তুলে ফেলে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ২৯ মে।

 কে কুন্দনলাল গুজরাল ও কুন্দনলাল জাগ্গি?

দরিয়াগঞ্জের ওয়েবসাইটে রয়েছে, কুন্দনলাল জাগ্গি হলেন তন্দুরি রান্নার কিংবদন্তি। পাঞ্জাবের তন্দুরি রান্নাকে তিনি জগদ্বিখ্যাত করেছিলেন। বর্তমান পাকিস্তানের পেশোয়ারে পাঞ্জাবি-হিন্দু পরিবারে তাঁর জন্ম। ১৯৩০ সালে পেশোয়ারের একটি রেস্টুরেন্টে তিনি এই ধরনের রান্না শুরু করেছিলেন। দেশভাগের পর তিনি জাগ্গি উদ্বাস্তু হয়ে এসে দিল্লিতে থাকতে শুরু করেন। সেখানে রান্নার বাইরে আর কোনও কাজ না জানা জাগ্গি ভাগ্যের সন্ধানে আরও দুজনের অংশীদারিত্বে দরিয়াগঞ্জে হোটেল খোলেন। অন্যদিকে, মোতিমহলের ওয়েবসাইট বলছে, কুন্দনলাল গুজরাল হলেন ভারতের খাদ্যাভ্যাস ও রসনাকে বদলে দেওয়া এক মানুষ। পাঞ্জাবি পাঠান অর্থাৎ গুজরাল পেশোয়ারেরই লোক।

বাটার চিকেন ও ডাল মাখানি উৎপত্তি ও ইতিহাস

দরিয়াগঞ্জের দাবি, ১৯৪৭ সালের কোনও এক রাতে কুন্দনলাল জাগ্গি দোকান বন্ধ করতে যাচ্ছেন, এমন সময় ক্ষুধার্ত কয়েকজন সেখানে এসে খেতে চান। অত রাতে রেস্তরাঁতেও খুব বেশি খাবার ছিল না। শুধু কয়েকটি তন্দুরি চিকেন পড়েছিল। তখন রেস্তরাঁয় খাচ্ছিলেন এমন এক বাঙালি তাঁকে বুদ্ধি দেন যে তন্দুরি চিকেনের মশলাদার মাখা মাখা ঝোল করে দিতে। তাই শুনে জাগ্গি টম্যাটো, মাখন এবং মশলা দিয়ে মাখা মাখা করে তাতে তন্দুরি চিকেনগুলি ছেড়ে নাড়িয়ে পরিবেশন করেন।

ডাল মাখানির গল্পটা আর একটু অন্যরকমের। স্বাধীনতার বছরেই এক শিখ খাদ্যরসিক যুবক, নাম সাচা সিং, জাগ্গির হোটেলে মাঝেমধ্যেই খেতেন। তিনি একদিন বলেন, মা কি ডাল নামে তখনকার দিনে জনপ্রিয় একটি পদকে আরও নতুন কিছু করে তুলতে। তখন জাগ্গি দিনের শেষে নিভন্ত আঁচে কালো কলাইয়ের ডালকে টম্যাটো, কিছু তরকারি ও মশলা দিয়ে সাঁতলে সারারাত রেখে দেন। সকালে সেই ডালের উপর মাখন ও তাজা মালাই ছড়িয়ে দিলে লোকে চেটেপুটে সাবড়ে দেয় ডাল মাখানি।


```