মহিলা আইএএস অফিসার বর্ণালী ডেকা ও ভাইরাল পোস্টের ছবি
শেষ আপডেট: 21 February 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুক পোস্টে (Facebook Post) শুধুমাত্র একটি হাসির ইমোজি (Emoji) দিয়েছিলেন। তার পরিণতি যে এতটা ভয়ানক হতে পারে তা কল্পনাও করেননি। অসম্মানজনক মন্তব্যের অভিযোগ তুলে তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন এক মহিলা আইএএস অফিসার (IAS)। স্বাভাবিকভাবেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুকথা ও অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে দায়ের হয় মামলা। সেই মামলায় জামিন পেতে একেবারে ২০০ কিলোমিটার ছুটে আসতে হল অভিযুক্তদের।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অনেকেই অনেক পোস্টে খারাপ মন্তব্য করেন। অনেকেই আইনের ঝামেলায় মন থেকে পড়তে না চেয়েই এসব বিষয়কে সেভাবে পাত্তা দেন না। কিন্তু আপনি ভাবুন তো একজন মহিলা আইএস অফিসারকে খারাপ মন্তব্যের পরিণতি কী হতে পারে? হলও তাই। বর্ণালী ডেকা নামে অসমের (Assam) বাসিন্দা ওই মহিলা আইএএস অফিসার নিজের ফেসবুক পেজে একটি ছবি আপলোড করেছিলেন। তা থেকেই শুরু হয় সমস্যা।
নরেশ বড়ুয়া নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেন, 'আজ মেক আপ নেই নাকি ম্যাম?' সেই কমেন্টেই হাসির রিয়াক্ট দেন অমিত চক্রবর্তী ও আব্দুল সুবুর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। তাতেই চরম রেগে যান মহিলা অফিসার। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনজনকে অসমের ঢেকিয়াজুলি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কোকরাঝাড় জেলা আদালতে টেনে নিয়ে আসেন এবং সেখানেই তাঁদের শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর হয়।
অভিযোগ, ২০২৩ সালে পোস্টটি করা হলেও দীর্ঘ দুবছর হয়ে গেলেও মামলার সমাধান হয়নি। যদিও কমেন্টের পাল্টা উত্তরে ডেকা নরেশ বড়ুয়াকে প্রশ্ন করেন, "তোমার সমস্যাটা কী?" এরপরই তিনি কোকরাঝাড় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং তিনজনের নাম উল্লেখ করেন।
জানা গিয়েছে, মামলার তথ্যপ্রমাণ হিসাবে ডেকা অভিযুক্তদের সঙ্গে চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট আদালতে জমা দিয়েছেন। একটি পোস্টে তিনি অভিযুক্ত চৌধুরীকে সতর্ক করে বলেন, "দয়া করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৪D ধারার অধীনে সাইবার স্টকিংয়ের বিষয়ে জানুন। আপনি এই আইনে দোষী এবং আমি সাইবার সেলের কাছে আপনার নামে অভিযোগ দায়ের করছি। আমাকে স্টক করার থেকে আপনার কাজের উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলেও সাফ জানিয়েছেন আইএএস অফিসার।
অন্য একটি পোস্টে, আরেকে অভিযুক্ত অমিত চক্রবর্তীকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, "এটি একটি অবমাননাকর এবং কুরুচিকর মন্তব্য। ধারা ৩৫৪A দেখুন। আমি আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করছি। আপনি অন্যদের সাহায্য করে দোষী প্রমানিত হয়েছেন।
তবে ২০২৩ সালে মামলা দায়েরের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে, অমিত চক্রবর্তী-সহ তিনজনকে থানায় তলব করা হয়েছিল। যখন তিনি পুলিশের কাছে বিস্তারিত জানতে চান, তখন তাকে কেবল জানানো হয়েছিল যে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "শুধুমাত্র ফেসবুকে একটি হাসির ইমোজির জন্য, আমাকে হয়রানি করা হয়েছে। আমি কেবল নরেশ বড়ুয়ার একটি পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম... মামলা সম্পর্কে আমার আর কিছু মনে নেই।"
একজন আইএএস অফিসার এত তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এত চরম পদক্ষেপ নেওয়ার সময় কীভাবে পেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনজনেই।