বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই সংবিধানকে তিনি আখ্যা দেন ‘কালির আঁচড়ে লেখা এক নীরব বিপ্লব’।

শেষ আপডেট: 11 June 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই (CJI BR Gavai) সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিয়নে এক বক্তৃতায় বলেন, ভারতের সংবিধান শুধুমাত্র অধিকার দেয় না, এটি ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিতদের উন্নতির আলোয় নিয়ে আসার এক শক্তি। সংবিধানকে তিনি আখ্যা দেন ‘কালির আঁচড়ে লেখা এক নীরব বিপ্লব’।
তবে তাঁর এই বক্তৃতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ‘বিচারবিভাগীয় সক্রিয়তা’ (Judicial Activism)। সেই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পেশ করে তিনি জানান, ‘বিচারবিভাগীয় সক্রিয়তা যেন বিচারবিভাগীয় সন্ত্রাসের রূপ না নেয়।’
একটি বিশেষ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিচারপতি গাভাই বলেন, ‘বিচারবিভাগীয় সক্রিয়তা ভারতের প্রেক্ষাপটে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয় যেখানে বিচারবিভাগ এমন ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করে, যেখানে তার না করাই উচিত।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিচারবিভাগ তখনই হস্তক্ষেপ করবে যদি আইনসভা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ‘বিচার সংক্রান্ত পর্যালোচনার (Judicial Review) ক্ষমতা’ শুধুমাত্র বিরল ও ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘যেমন কোনও আইন যদি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধী হয় বা স্পষ্টভাবে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হয়, অথবা একেবারে স্বেচ্ছাচারী ও বৈষম্যমূলক হয়- এই ধরনের ক্ষেত্রেই একমাত্র আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছর এপ্রিল মাসে, সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবার জানিয়েছিল, গভর্নরের বিবেচনার জন্য যেসব বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়, সেগুলোর ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এর এক মাস পর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রশ্ন তোলেন- ‘রাজ্যপাল যখন কোনও বিল পান, তখন তিনি মন্ত্রিসভার পরামর্শ মানতে বাধ্য কি না?’
তিনি আরও জানতে চান, রাজ্যপালের সাংবিধানিক বিবেচনার অধিকার কি আদালতের বিচারযোগ্য? অর্থাৎ, কোনও আদালতে তার ওপর বিচার সম্ভব কি না? রাষ্ট্রপতি তাঁর এই প্রশ্ন তুলেছেন সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চাইতে পারেন। তিনি সংবিধানের ৩৬১ অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল তাঁদের ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য কোনও আদালতের কাছে দায়বদ্ধ নন।