.webp)
শেষ আপডেট: 30 August 2024 09:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সরেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের অন্যতম চম্পাই ইতিমধ্যেই দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন।
মূলত জিএমএমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিবু সরেনের পুত্র মুখ্যমন্ত্রী হেমন্তের আচরণে ক্ষুব্ধ চম্পাই দল ছাড়লেন। দুর্নীতির মামলায় জেলে যাওয়া হেমন্ত ছাড়া পেতেই যেভাবে তাঁকে জোর করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে নিজে কুর্সিতে বসেছেন তাতেই অপমানিত চম্পাই বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। যদিও গোড়ায় বিহারের জীতন রাম মাঝির মতো তিনিও নিজের দল গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কিন্তু অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার লাগাতার প্রচেষ্টার মুখে সিদ্ধান্ত বদলে শুক্রবার পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। দেশের পূর্ব ও উত্তর পূর্ব প্রান্তে বিজেপিতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, শুভেন্দু অধিকারীদের সঙ্গে চম্পাইয়ের নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে, অন্য দল থেকে আসা যে নেতাদের বিজেপি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। চম্পাইকে আসন্ন বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করা হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট না হলেও এই আদিবাসী নেতাকে সম্মানজনক পদ দেওয়া হবে বলেই খবর।
চম্পাই ও হিমন্ত সরেনের সম্পর্কের অবসান অনেকটাই বিহারে নীতীশ কুমার আর জীতন রাম মাঝির মতো। ২০১৩-কে নীতীশ কুমার সাময়িকভাবে এনডিএ ছাড়ায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিও ত্যাগ করে বসিয়েছিলেন ঘনিষ্ঠ জীতনরাম মাঝিকে। বছর ঘুরতে নীতীশ ফের মুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করলে বেঁকে বসেন জীতনরাম। একপ্রকার জোর করেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে ক্ষমতায় ফেরেন নীতীশ। ক্ষুব্ধ জীতনরাম জেডিইউ ছেড়ে নিজের দল গড়ে এনডিএ-র শরিক হন।
চম্পাই সে পথে হাঁটেননি শেষ পর্যন্ত। কিন্তু বিজেপির কতটা লাভ, জেএমএম-এর ক্ষতি হবে কি না তা নিয়ে জোর চর্চা আছে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা চম্পাইয়ের প্রভাব আছে মূলত তিন জেলা পূর্ব ও পশ্চিম সিংভূম এবং সরাইখেলা-খরসাম্বাতে। ওই তিন জেলায় বিধানসভার মোট আসন ১৪টি।
জেএমএম মনে করছে, চম্পাই বিজেপিতে যাওয়ায় তাদের তেমন একটা ক্ষতি হবে না। কারণ ঝাড়খণ্ডে আদিবাসী মহল্লায় এখন বিজেপি বিরোধী মেজাজ চড়া। চম্পাই নির্দল কিংবা নিজের দল গড়ে লড়াই করলে জেএমএম-এর ভোট কেটে বিজেপির সুবিধা করে দিতে পারতেন। সেই আশঙ্কা এখন জেএমএম-এর নেই।
অন্যদিকে, বাঙালি অধ্যুষিত সাঁওতাল পরগনায় চম্পাইয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইতিমধ্যেই তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বাঙালিদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে দেগে চলেছে। এ নিয়ে বাঙালি সমাজ ক্ষিপ্ত। চম্পাই আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম পতাকা হাতে নেওয়ার আগেই গেরুয়া শিবিরের সুরে সাঁওতাল পরগনার বাঙালিদের অনুপ্রবেশকারী বলে সোশ্যাম মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, একমাত্র বিজেপিই পারে অনুপ্রবেশকারীদের সায়েস্তা করতে। বিজেপি মনে করছে, স্বচ্ছ ভাবমুর্তির নেতা চম্পাইকে সামনে রেখে তারা আদিবাসী ভোটে বড় থাবা বসাতে পারবে। যদিও দলের মধ্যে এই ব্যাপারে ভিন্ন মত আছে। দলের প্রবীণ নেতাদের অনেকেই মনে করেন, চম্পাই ভাল মানুষ, কিন্তু প্রভাবশালী নেতা নন।