২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের পরবর্তী জনগণনা। এবার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জাত-পাত ও উপ-জাতির বিশদ বিবরণ।

শেষ আপডেট: 4 June 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের পরবর্তী জনগণনা (Census) শুরু হতে চলেছে ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে। এবারের গণনায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন দিক, জাতি ও উপজাতির বিস্তারিত তথ্য। সরকার সূত্রের খবর, ২০১১ সালের পর এই প্রথম, অর্থাৎ দীর্ঘ ১৬ বছর পর হতে চলেছে জাতীয় স্তরের এই আদমশুমারি। ২০২১ সালের কোভিড মহামারীর কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল আদমশুমারি।
সরকারি ভাবে ২০২৭ সালের ১ মার্চ জনগণনা শুরুর কথা হলেও, প্রথম ধাপের কাজ শুরু হবে তারও আগে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে। লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের মতো পাহাড়ি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে শীতকালের আবহাওয়া খুবই প্রতিকূল হওয়ার কারণে, এসব রাজ্যে আগেই আদমশুমারি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আসন্ন এই আদমশুমারি হবে দু’টি ধাপে। কারণ এবার নাগরিকদের থেকে শুধু জনসংখ্যার তথ্য নয়, আরও বিস্তৃত সামাজিক ও আর্থিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। বিশেষভাবে যুক্ত হচ্ছে জাতি ও উপজাতি সংক্রান্ত প্রশ্ন, যা ভারতের জনগণনায় এই প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে চলেছে।
চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করেছে, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে জাত ও উপজাতি সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জাতি ও উপজাতির নাম এবং প্রতিটির অন্তর্গত জনসংখ্যার সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। বিরোধী দলগুলির দীর্ঘদিনের দাবির পর সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সিদ্ধান্ত এল এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন বিহারের বিধানসভা নির্বাচন দুয়ারে। বিহারে প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষ অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (Extremely Backward Class) বা অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণিভুক্ত (OBC)। ফলে আদমশুমারিতে জাতপাতের তথ্য সংগ্রহ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সেই ২০১১ সালের পর থেকে আদমশুমারি না হওয়ায়, দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলগুলি জনগণনা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল। তাঁদের যুক্তি, সঠিক ও বর্তমান জনসংখ্যা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্য ছাড়া কার্যকরী নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়। সরকারি নীতি, সংরক্ষণ, শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে বাস্তব ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে জাতিগত ও আর্থসামাজিক পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।