
শেষ আপডেট: 27 February 2024 20:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধন বিল (CAA) অনেক আগেই সংসদের দুই কক্ষে পাস হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সইয়ের পর তা আইনের চেহারাও নিয়েছে। শুধু বাকি ছিল ও আইনের ছাতার তলায় বিধি নিয়ম বাস্তবায়িত করা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের দাবি, লোকসভা ভোটের আগেই তা চালু হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের সরকারের মতিগতি না বদলালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বারাসতের সভার আগেই নয়া নিয়ম (Citizenship Amendment Act – rules) বাস্তবায়িত করার ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।
নর্থ ব্লক সূত্রে বলা হচ্ছে, সিএএ বাস্তবায়িত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি পোর্টাল বানিয়েছে। কারণ, গোটা প্রক্রিয়াই অনলাইন হবে। যারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবেন তাঁদের ওই পোর্টালের মাধ্যমে তা করতে হবে। অর্থাৎ কোনও শরণার্থী ভারতে প্রবেশের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানালে তা ওই সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে করতে হবে। কবে এ দেশে প্রবেশ করেছে, কোথায় থাকছে তা জানাতে হবে।
নাগরিকত্ব আইন ২০১৯ সালে সংসদে পাশ হয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, শিখরা ভারতের শরণার্থী হয়ে এলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই আইনে।
বস্তুত সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাশ হওয়ার পর থেকে বিরোধী দলগুলি এর সমালোচনা করছে। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ-এনআরসি বিরোধী প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন। সেই সঙ্গে ‘ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ’ বলে স্লোগানও তুলেছিলেন।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে বলা হচ্ছে, সংশোধন আইনের আওতায় যে নিয়মনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে দেশের বর্তমান নাগরিকদের, তা কেউ যে ধর্মেরই হোক না কেন, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কোনও অধিকার দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহও জানিয়েছেন যে, লোকসভা ভোটের আগেই নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বাস্তবায়িত হবে। তার মাধ্যমে শরণার্থীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ নির্বাচন কমিশন লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দেবে। তার পর বর্তমান সরকারের ভূমিকা অনেকটা কেয়ারটেকারের মতো হয়ে যাবে। সম্ভবত সেই কারণে মার্চের গোড়াতেই সংশোধন আইনের অধীনে বিধি নিয়ম ঘোষণা করে দেওয়া হবে।