মোহান্তির বন্ধুদের ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ওই চার ছাত্র। মোহান্তির বন্ধুরা ভয় পেয়ে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা ট্রান্সফারও করে দেন। কিন্তু কোনও কারণে বন্ধুদের সন্দেহ শুরু হয়। তখন তাঁরা দেরি না করে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশের জালে ধরা পড়ল ভিনরাজ্য থেকে পড়তে আসা চার ‘গুণধর’ ছাত্র
শেষ আপডেট: 13 April 2026 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্য ছিল বিলাসবহুল জীবনযাপন আর দুহাতে টাকা ওড়ানো। আর সেই দামী শখ মেটাতে নিজেরই এক সহপাঠীকে টার্গেট করল চার বন্ধু। নকল বন্দুক দেখিয়ে তাঁকে অপহরণ (Bengaluru College Student kidnapped by classmates) করে দাবি করা হল মুক্তিপণ। তবে শেষরক্ষা হল না। পুলিশের জালে ধরা পড়ল ভিনরাজ্য থেকে পড়তে আসা চার ‘গুণধর’ ছাত্র (Bengaluru College Students Arrested)।
বেঙ্গালুরুর নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জৈন ইউনিভার্সিটির চার ছাত্রের কীর্তিতে তাজ্জব পুলিশ (Jain University student kidnapping case)।
অপহরণের ছক ও মুক্তিপণ
অপহৃত ছাত্রের নাম মোহান্তি, যিনি ওড়িশার বাসিন্দা। অন্যদিকে ধৃত চার অভিযুক্ত বিহার, ঝাড়খণ্ড, কেরল এবং খোদ বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা প্রথমে মোহান্তিকে হস্টেল থেকে বাইরে ডেকে আনে। এরপর একটি গাড়িতে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এক অভিযুক্তের ঘরে। সেখানেই নকল বন্দুক আর ছুরি দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়।
এর পরেই শুরু হয় আসল খেলা। মোহান্তির বন্ধুদের ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ওই চার ছাত্র। মোহান্তির বন্ধুরা ভয় পেয়ে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা ট্রান্সফারও করে দেন। কিন্তু কোনও কারণে বন্ধুদের সন্দেহ শুরু হয়। তখন তাঁরা দেরি না করে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশি তৎপরতা ও উদ্ধার
অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে বেঙ্গালুরু পুলিশ। মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে ওই চার ছাত্রের ডেরায় হানা দেয় পুলিশ বাহিনী। উদ্ধার করা হয় মোহান্তিকে। গ্রেফতার করা হয় চার অভিযুক্তকে। তাঁদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত নকল বন্দুক, ছুরি এবং গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অভ্যাসগত অপরাধী, বলছে পুলিশ
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, ধৃত চার পড়ুয়া কেবল এই একবারই নয়, বরং হস্টেলের ভিতরে একটি গ্যাং তৈরি করে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াত। এর আগে একাধিক ছাত্রকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
লেখাপড়া ছেড়ে বিলাসবহুল জীবনের মোহে ছাত্রদের এই অপরাধের পথে পা বাড়ানো নতুন করে কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।