
চিনের বাতিল করা বোয়িং বিমানে নজর এয়ার ইন্ডিয়ার।
শেষ আপডেট: 22 April 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন ও আমেরিকার বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই নতুন সুযোগের সন্ধান করছে এয়ার ইন্ডিয়া। যেসব ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান চিনের জন্য তৈরি করেছিল বোয়িং, কিন্তু এখন চিন বাতিল করে দিয়েছে, নিচ্ছে না, সেই বিমানগুলো কিনে নিতে চাইছে ভারতের জাতীয় বিমান সংস্থা। মার্কিন সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। কিছু ঘনিষ্ঠ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই বোয়িং-এর সঙ্গে যোগাযোগের কথা ভাবছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিনা সরকার তাদের দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোকে বোয়িং-এর কাছ থেকে নতুন বিমান নিতে নিষেধ করেছে। এর ফলে অন্তত ১০টি ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান, যেগুলো চিনের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছিল, সেগুলোর ডেলিভারি আটকে যায়। এমনকি কিছু বিমান আমেরিকায় ফেরতও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়া চাইছে, এই বাতিল হওয়া বা রফতানিতে আটকে পড়া বিমানগুলো কিনে নিতে।
সূত্রের খবর, যদি ভবিষ্যতে এমন আরও বিমান প্রস্তুত থাকে এবং সেগুলোর জন্য স্লট খালি হয়, তাহলে সেগুলোর দিকেও নজর রাখবে এয়ার ইন্ডিয়া।
জানা যাচ্ছে, এয়ার ইন্ডিয়ার এখন একান্ত প্রয়োজন নতুন বিমান। বিশেষ করে, বাজেট সাবসিডিয়ারি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের জন্য বেশি দরকার এই নতুন ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলগুলো। কারণ, দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্ডিগো, যারা আড়েবহরে ক্রমাগত আপগ্রেড করছে নিজেদের।
এখনও পর্যন্ত ৪১টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান সংগ্রহ করেছে এয়ার ইন্ডিয়া, যেগুলো মূলত চিনের জন্য নির্মিত হয়েছিল কিন্তু ২০১৯ সালের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেল গ্রাউন্ডিংয়ের কারণে চিনে পাঠানো হয়নি। এখন ২০২৫ সালের জুনের মধ্যেই আরও ৯টি বিমান পেতে চলেছে এয়ার ইন্ডিয়া, যার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০।
তবে, এই বিমানের চটজলদি হস্তান্তরে একাধিক সমস্যা আছে। প্রথমত, যেহেতু বিমানগুলো মূলত চিনের অর্ডারে তৈরি, তাই তার কেবিন কনফিগারেশন বা অন্যান্য নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য ইতিমধ্যেই সেট করা হয়েছে। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে আংশিক অর্থও প্রদান করা হয়েছে। ফলে এই বিমানগুলো অন্য কোনও গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা সহজ নয়।
আরও একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, সাপ্লাই চেনের জটিলতা। এয়ার ইন্ডিয়া চাইছে, বর্তমানে যে বিমানে বিজনেস ক্লাস আছে, তা সরিয়ে সবগুলি ইকনমি ক্লাসে রূপান্তর করতে। লক্ষ্য, ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে অল-ইকনমি মডেলে রূপান্তর। কিন্তু এই পরিকল্পনাও সরবরাহ ঘাটতির কারণে ঝুলে যাচ্ছে।
২০২৩ সালে এয়ার ইন্ডিয়া বোয়িং-এর কাছে ১৪০টি নতুন স্লিম মডেলের বিমান অর্ডার করেছিল। কিন্তু সেগুলোর ডেলিভারি শুরু হবে ২০২৬ সালের মার্চের পর থেকে। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন বিমান সংগ্রহের জন্য এয়ার ইন্ডিয়াকে অন্য জায়গায় ভরসা করতে হচ্ছে, যাতে তারা ইন্ডিগোর তুলনায় পিছিয়ে না পড়ে।
তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও চিনের জন্য তৈরি কিন্তু বাতিল হয়ে যাওয়া বেশ কিছু ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান ভারতীয় বাজারে আনা হয়েছে। এবারের পরিস্থিতি অনেকটা ভিন্ন। এবার সরাসরি আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের ফলেই বিমান সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। আর সেই সুযোগেই এয়ার ইন্ডিয়া আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-রাজনীতির সুযোগ নিয়ে তারা সফল হয় কিনা, তা সময় বলবে। তবে একথা স্পষ্ট, ভারতের বিমান পরিষেবা খাতের প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই এই ধরনের কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়াকে। আর সেই পথে হাঁটতেই তারা এবার চিনের বাতিল করা বোয়িং বিমানের দিকে তাকিয়ে আছে।