
Draupadi Murmu
শেষ আপডেট: 15 March 2024 15:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিকাণ্ড নিয়ে শুধু বাংলা নয়, হইচই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় স্তরেও। সেখানকার নির্যাতনের ঘটনা শুনে ইতিমধ্যেই একাধিকবার দাবি উঠেছে রাষ্ট্রপতি শাসনের। এবার সন্দেশখালির মহিলারা দিল্লি গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করলেন। মোট ১১ জন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যাঁদের মধ্যে ৫ জন মহিলা এবং বাকিরা পুরুষ।
সেন্টার ফর এসসি এসটি সাপোর্ট অ্যান্ড রিসার্চের ডিরেক্টর ড. পার্থ বিশ্বাসের নেতৃত্বে সন্দেশখালির 'নির্যাতিত'রা শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে যান। সেখানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। পরে সংবাদমাধ্যমে পার্থ জানান, সন্দেশখালির মহিলা এবং নির্যাতিত পুরুষদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন রাষ্ট্রপতি। সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে দুঃখ প্রকাশও করেছেন। পার্থ এও জানান, সন্দেশখালির মহিলার এই ইস্যুতে দ্রুত প্রতিকার চেয়েছেন রাষ্ট্রপতির কাছে থেকে। কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি উঠেছে, তা নিয়ে দ্রৌপদী মুর্মু কোনও মন্তব্য করেছেন কিনা, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি পার্থ বিশ্বাস।
#WATCH | Delhi | 11 victims of violence including five women from West Bengal's Sandeshkhali met President Droupadi Murmu, in Rashtrapati Bhawan, today
— ANI (@ANI) March 15, 2024
Dr. Partha Biswas, Director of the Center for SC/ST Support and Research says, "Regarding the issue of Sandeshkhali, the… pic.twitter.com/3lqQ9R0QFr
সন্দেশখালির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সেখানে একাধিক প্রতিনিধি গেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সকলেই রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেছে। জাতীয় তফসিলি জাতি এবং জনজাতির কমিশনের পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং মহিলা কমিশন ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভবনে রিপোর্ট দিয়ে বাংলায় দাবি করেছে রাষ্ট্রপতি শাসন।
শুক্রবার দিল্লি গিয়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করলেন সন্দেশখালির মহিলারা। তবে যে সময়ে পরপর রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি উঠছিল সে সময়ে গ্রেফতার হয়নি মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান। বর্তমানে অবশ্য সে গ্রেফতার হয়ে সিবিআই হেফাজতে আছে। শাহজাহান ছাড়াও তার বাকি অনুগামী তথা অন্যতম অভিযুক্ত শিবু হাজরা এবং উত্তর সর্দারও গ্রেফতার হয়েছে।
সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে রাজ্যের শাসক দলের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধীরা। আসলে মূল অভিযুক্ত শাহজাহান ৫০ দিনের উপর ফেরার থাকায় রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তাদের প্রতিনিধিদের সন্দেশখালি যেতেও বাধা দেওয়া হয় বহুবার।
সন্দেশখালিতে ১৪৪ ধারা জারি করা নিয়েও তোলপাড় হয়েছিল রাজ্যে। গোটা ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিরোধীরা। পরে শাহজাহান গ্রেফতার হলে স্থানীয় মানুষদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও কমে। তবে লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যু যে শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বড় হাতিয়ার, তা অস্বীকার করা যায় না।