
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 November 2023 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: শনিবার ভরসন্ধ্যায় রাস্তার ধারে মিলেছিল গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির দেহ। ঘটনায় শোরগোল পড়েছিল চাকদহের মদনপুরে। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করলেও প্রাথমিকভাবে নাম পরিচয় কিছুই জানা যায়নি। পরে দেহ শনাক্ত হয়। জানা যায় মৃত আকলাখ আলম (৪৫) ঝাড়খণ্ডের কাপালি থানার আমজাদ বস্তির বাসিন্দা। তদন্ত করে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুনি সন্দেহে এক তরুণীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম পারুল খাতুন।
রবিবার রাতে চাকদা থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাউতারি গ্রাম পঞ্চায়েতের যাত্রাপুর থেকে পারুলকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে পারুল পুলিশকে জানায়, শিমুরালির পাওয়ার গ্রিড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করত আকলাখ নামে ওই ব্যক্তি। তাদের বাড়িতে ভাড়া থাকার সময়েই আকলাখের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন আগে বাড়ি ছাড়লেও ওই ব্যক্তি মাঝেমধ্যেই ডেকে পাঠাত তাকে। ইতিমধ্যে ওই পরিবারের লোক অন্যত্র পারুলের বিয়ে ঠিক করে। সামনের মাসেই বিয়ে। কিন্তু আকলাখ কিছুতেই তাকে সম্পর্ক ছেড়ে বেরোতে দিচ্ছিল না। অভিযোগ, শনিবার রাতে ওই ব্যক্তিকে মদনপুরে ডেকে নেয় পারুল। এরপরেই খুব কাছ থেকে গুলি করে তাকে খুন করে।
পুলিশকর্তারা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বছর দুয়েক আগে আকলাখের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল ওই তরুণী। ঝাড়খণ্ডে গিয়ে দু’মাস ঘর-সংসারও করে। সেখানে গিয়ে জানতে পারে আকলাখের স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। এরপর আবার নদিয়ায় ফিরে আসে। পুলিশের দাবি, ধৃত তরুণী জেরায় স্বীকার করেছে এখন আকলাখের থেকে যথেষ্ট টাকা পয়সা পাচ্ছিল না সে । কিন্তু সম্পর্ক রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল। তাই আখলাককে খুনের ষড়যন্ত্র করে সে।
অভিযোগ, শনিবার আখলাখকে ডেকে পাঠিয়েছিল পারুল। মদনপুর গাঙ্গুলিপাড়ায় মাঙ্গলিক ক্লাবের পিছনের রাস্তায় দুজনে পাঁচ-দশ মিনিট গল্প করে। এরপরেই ব্যাগ থেকে বন্দুক বার করে আকলাখকে গুলি করে মোটরবাইক চালিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশকে জানান, এক মহিলাকে গুলি ছুড়তে দেখেছেন তাঁরা। এরপরেই তদন্তে নেমে ওই তরুণীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।