দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ বিশ্ব পোলিও দিবস। ড. জোন্স সালকের জন্মদিনকে মনে রেখে প্রতিবছর ২৪ অক্টোবর বিশ্ব পোলিও দিবস পালন করা হয়।গত এক দশক ধরে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিশ্ব পোলিও নিরাময় কর্মসূচির (জিপিইআই) উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে পোলিও টিকা কর্মসূচি শুরু হয়। রোটারি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, বিল এবং মিলিন্ডা গেটস্ ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন দেশের সরকার এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগ নিরাময়ে বিশ্বাসী। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী এখনও গোটা বিশ্বে ২৪৩টি পোলিও রোগ ধরা পড়েছে। আপনি জেনে একটু খুশি হতে পারেন যে এই তালিকাতে ভারতের নাম নেই। এই সবকটি রোগ ধরা পড়েছে নাইজিরিয়া, পাকিস্তান, এবং আফগানিস্তানে।
আজ ন'বছর হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতকে পোলিও মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। পোলিও থেকে দেশের জনগণকে সুরক্ষিত রাখা, যে কোনও দেশের পক্ষেই গর্বের। এর জন্যে প্রয়োজন নজরদারি, টিকাকরণ কর্মসূচি এবং মানুষের মধ্যে সেচতনা বৃদ্ধি করার জন্যে প্রচার।
কী এই পোলিও?
পোলিও ভাইরাসঘটিত সংক্রমক রোগ। মূলত শিশুদেরকেই আক্রমণ করে। এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে জল এবং খাবারের মাধম্যে ছড়িয়ে যায় এই রোগ।
উপসর্গ
পোলিওর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ক্লান্তি, পিঠ বা পা শক্ত হয়ে যাওয়া, পেশীর দুর্বলতা। এই উপসর্গগুলো সংক্রমণের ১০ পর্যন্ত বজায় থাকে। পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে, মস্তিষ্ক-ঝিল্লীর প্রদাহ এবং পায়ে পক্ষাঘাত শুরু হয়। যাঁরা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন, তাঁদের শ্বাস সংক্রান্ত পেশীগুলো ঠিক মতো কাজ করতে পারেনা। ফলত এই কারণে ৫-১০ শতাংশ রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়।
সুস্থ রাখার উপায়
ওপিভি বা ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ানো প্রয়োজন। জন্মের সময় প্রথম মাত্রা, ৬,১০ ও ১৪ সপ্তাহে প্রাথমিক মাত্রা ও ১৬ -২৪ মাস বয়সে একটি বুস্টার দেওয়া প্রয়োজন।
আইপিডি বা ইঞ্জেক্টেবল পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ১৪ সপ্তাহে এসে ডান হাতের উপরিভাগে ত্বকে ফ্র্যাকশনাল ডোজ দেওয়া হয়।
ভারত পোলিও মুক্ত। কিন্তু এখনও যে তিনটি দেশে পোলিও রোগী হয়েছে, সেখানে আরও যত্ন সহকারে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।