দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন পকেটমারের পকেট কাটল পুলিশ!
খাটাখাটনি করে পকেট কেটে এটিএম কার্ড হাতাল চোর, আর সেগুলোই বেমালুম হাতিয়ে নিলেন মহিলা পুলিশ কর্মী। চোরের কপালে টাকা তো জুটলই না, উল্টে ক্ষীর খেয়ে গেল পুলিশ।
ঘটনা চেন্নাইয়ের। পকেটমারের থেকে বাজেয়াপ্ত করা ১৩টি এটিএম কার্ডের মধ্য়ে ২টি কার্ড থেকে মোট আড়াই লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে চেন্নাই সেন্ট্রাল রেল পুলিশের ইনস্পেকটর কায়ালভিজির বিরুদ্ধে। যদিও তাঁকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর।
ঘটনাটা ঠিক কী? পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৪ ব্যাচের ইনস্পেকটর কায়ালভিজি। সম্প্রতি সেন্ট্রাল রেলওয়ের থানা থেকে তাঁরে শহরে পাঠানোর কথা ছিল। বেশ কড়া ধাঁচেরই পুলিশ কায়ালভিজি। তাঁকে বেশ সমঝেই চলে পকেটমার থেকে ছিঁচকে চোরেরা। কিন্তু, তলে তলে যে এই মহিলা পুলিশ এমন কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। খবর সামনে আসায় চোখ কপালে উঠেছে কায়ালভিজির সহকর্মীদেরও।
পুলিশ জানিয়েছে, গত মে মাসে চেন্নাই স্টেশন থেকে পকেটমার সাহুল হামিদকে পাকড়াও করেছিলেন কায়ালভিজি। সাহুল বেশ ধুরন্ধর চোর। ফার্স্ট ও সেকেন্ড ক্লাস এসি কামরায় যাত্রীদের পকেট কাটে। তাকে ধরে ১৩টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করেন কায়ালভিজি। সেই সঙ্গে নগদ টাকা ও গয়নাও উদ্ধার হয়। সেই সবই নিয়মমাফিক তিনি থানায় জমা করেছিলেন। শুধু নিজের কাছে রেখেছিলেন ওই ১৩টি এটিএম কার্ডের মধ্যে ২টি। জেরা পর্ব মিটলে সাহুলের জেল হয়। বিষয়টা ধামাচাপাও পড়ে যায়। চমকটা আসে দিনকয়েক আগে।
ধৃত সাহুলের বোন থানায় এসে জানায়, তার দাদার চুরি করা মোবাইলের দু’টিতে আড়াই লক্ষ টাকা তোলার মেসেজ ঢুকেছে। সাহুল তো জেলে। কার্ডও পুলিশের কাছে। তাহলে ওই টাকা তুলল কে? চমকে ওঠেন পুলিশ কর্তারা। খুঁজে পেতে দেখা যায় খোদ কায়ালভিজির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে সেই টাকা। কার্ডও পাঞ্চ করেছেন তিনিই।
চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলওয়ের জিআরপি-র ডেপুটি সুপার জানিয়েছেন, পশ্চিম মামবালামের একাধিক এটিএম থেকে ওই টাকা তুলেছেন কায়ালভিজি। শহরের ওই এলাকার সমস্ত এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে কায়ালভিজির সমস্ত অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হবে।