দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবারই কৃষকরা ঘোষণা করেছেন, ১৪ ডিসেম্বর থেকে আরও জোর আন্দোলন শুরু হবে। শুক্রবার হরিয়ানায় বিজেপির শরিক দল জননায়ক জনতা পার্টির নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্যন্ত চৌতালা বললেন, তিনি যে করেই হোক কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়া নিশ্চিত করবেন। না হলে পদত্যাগ করবেন।
চৌতালা এদিন বলেন, "আমাদের দলের সর্বভারতীয় সভাপতি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়া নিশ্চিত করতেই হবে। কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের লিখিত প্রতিশ্রুতিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের কথা বলেছিল। আমি যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি, কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়া নিশ্চিত করব। যদি এই প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারি, তাহলে ইস্তফা দেব।"
পরে তিনি বলেন, "চৌধুরি দেবীলাল বলতেন, কৃষকরা যদি সরকারের শরিক হয়, কেবল তাহলেই সরকার তাদের কথা শোনে। আমি এবং আমার দল কৃষকদের দাবি নিয়ে সরকারের ওপরে চাপ দিচ্ছি। কেন্দ্রের মন্ত্রীদের সঙ্গে আমি নিয়মিত ফোনে কথা বলি। কীভাবে কৃষকদের সমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করি।"
কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করার দাবিতে ২৬ নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে কয়েক হাজার কৃষক অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার কৃষক সংগঠনগুলির ডাকে পালিত হয়েছে ভারত বন্ধ। এদিনই সন্ধেবেলা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন কৃষকরা। কিন্তু তারপরেও সমাধান সূত্র বের হয়নি। কারণ দু’তরফই নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল। আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে, রিলায়েন্সের মল বয়কট করা হবে এবং দখল করা হবে বিভিন্ন টোল প্লাজা।
শুক্রবার জানা গিয়েছে, দিল্লিতে আন্দোলনে যোগ দিতে আসছেন আরও অনেক কৃষক। ট্রাক্টরে করেই দিল্লি আসছেন কৃষকরা। কিন্তু তারা যাতায়াতের জন্য কোনও সরকারি মাধ্যম ব্যবহার করছে কিনা সে বিষয়ে নজর রাখছে পুলিশ। এছাড়া এই জমায়েতের ফলে যাতে কোনও হিংসার ঘটনা না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে পুলিশকে।
কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির নেতা এস এস পান্ধের জানিয়েছেন, “প্রায় ৭০০ ট্রাক্টর দিল্লির কুন্দলি সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসছে। অমৃতসরে এতদিন বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তাঁরা। শুক্রবার থেকে তাঁরা রওনা দিয়েছেন দিল্লির দিকে।”
কৃষকদের এই জমায়েতের ফলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। সিঙ্ঘু সীমান্তে দায়িত্বে থাকা দুই আইপিএস অফিসার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই জমায়েতের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা করেছেন আইনজীবী ওম প্রকাশ পরিহার। তাঁর আবেদন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিকে এই জমায়েতকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়ার। দিল্লির এক আইনজীবী রিপক কানসালও একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর আবেদন, এই জমায়েতের ফলে যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কোনও সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে সুপ্রিম কোর্টকে।