
শেষ আপডেট: 17 January 2023 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত জোড়ো যাত্রায় (Bharat Jodo Yatra) রাহুল গান্ধী যে ভাষায় ঘৃণা, বিদ্বেষের রাজনীতির বিরুদ্ধে মুখর হয়েছেন, ঠিক সেই ভাষাতেই বিভাজন রাজনীতির নিন্দায় সরব তাঁর খুড়তুতো ভাই বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধী (Varun Gandhi)। রাজীব গান্ধীর ভাই সঞ্জয়ের পুত্র বরুণ উত্তরপ্রদেশের পিলভিটের সাংসদ। মা মানেকার সঙ্গে তিনিও দীর্ঘদিন বিজেপির সঙ্গে ঘর করছেন। অটল বিহারী বাজপেয়ি এবং নরেন্দ্র মোদীর প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন সঞ্জয় পত্নী মানেকা।
কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ বিজেপিতে থাকা গান্ধী পরিবাবের এই দুই সদস্যের সঙ্গে দলের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না। উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাগাতার সমালোচনা করে চলেছেন বরুণ। বিজেপি প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু না বললেও জেপি নাড্ডা সভাপতি হওয়ার পর মা ও ছেলেকে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতি থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
সেই থেকে বরুণের বিজেপি ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা ছিল। সম্প্রতি তাঁর কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। একই দিনে তিনি রাহুলের ভাষায় বিভাজন রাজনীতির বিরোধিতার পাশাপাশি বলেন, ‘আমি কখনও জওহরলাল নেহরু এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি।’ অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চান মোদীর নেহেরু বিরোধিতা এবং কংগ্রেস মুক্ত ভারতের ডাকে তাঁর সায় নেই।
সেই থেকে গত মাস খানেকের মধ্যে বরুণের কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে রাহুল গান্ধী দু’বার মিডিয়ার সামনে প্রতিক্রিয়া দিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে দু’বারই বরুণকে কংগ্রেসে স্বাগত জানানোর প্রসঙ্গ এড়িয়ে জবাব দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি।
মঙ্গলবার পাঞ্জাবের হোসিয়ারপুরে ভারত জোড়ো যাত্রার ফাঁকে রাহুল বলেন, 'উনি (বরুণ) আমার কাছে এলে জড়িয়ে ধরতে পারি। কিন্তু ওঁর আর আমার বিচারধারার মধ্যে কোনও মিল নেই। আমাদের ভাবধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি কখনও কি আরএসএসের অফিসে যেতে পারি? অসম্ভব। দু'টো বিপরীতমুখী বিচারধারার মিল হতে পারে না।'
রাহুল বুঝিয়ে দিয়েছেন, বরুণ বিজেপির বিরুদ্ধে বললেও সে নিজে আরএসএসের ভাবধারায় বিশ্বাসী। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বিজেপিতে গিয়েছেন। ফলে নিছক বরুণের মোদী এবং বিজেপি সরকারের বিরোধিতাকে রাহুল বড় করে দেখছেন না।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাহুলের মূল্যায়ন ভুল নয়। ভাই বরুণ এবং কাকিমা মানেকা বিজেপিতে বিপাকে পড়েছেন নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর। মোদী আসার পর বিজেপি গান্ধী পরিবারের মা ও ছেলেকে ক্রমশ গুরুত্বহীন করে তোলে। কারণ, মোদী চান না, সনিয়া, রাহুলদের বিরোধিতায় গান্ধীদের পারিবারিক বিরোধকে কাজে লাগানো হোক। আর তার ফলেই মানেকা, বরুণদের গুরুত্ব কমেছে বিজেপিতে। তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন পারিবারিক বিরোধের জেরেই।
ইন্দিরা গান্ধীর জীবদ্দশাতেই সেই বিরোধের সূত্রপাত। পেশায় সাংবাদিক ছোট বউমা মানেকার সঙ্গে শাশুড়ি ইন্দিরার বনিবনা হত না। ১৯৮০-তে সঞ্জয় বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার কিছুদিন পর ছেলেকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান মানেকা।
২০২২-এ বিশ্বে খুন হয়েছেন ৮৬ সাংবাদিক, আগের তিন বছরের তুলনায় অনেক বেশি