দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র থেকে গ্যাংস্টার, মাথার দাম ছিল ৪ লাখ টাকা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউনিভার্সিটি টপার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বামী শ্রদ্ধানন্দ কলেজের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র একদিন অপরাধ দলে নাম লেখাবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি কেউ। সালটা ২০১০। বাবার মৃত্যুর পরেই জিতেন্দ্র গোগীর (Jitender Gogi) আচরণে বদল আসতে থাক
শেষ আপডেট: 24 September 2021 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউনিভার্সিটি টপার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বামী শ্রদ্ধানন্দ কলেজের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র একদিন অপরাধ দলে নাম লেখাবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি কেউ। সালটা ২০১০। বাবার মৃত্যুর পরেই জিতেন্দ্র গোগীর (Jitender Gogi) আচরণে বদল আসতে থাকে। ইউনিভার্সিটিতে তখন ছাত্র সংসদের ভোট চলছে। গোগীর সুনাম ভাল চোখে নেয়নি বিপক্ষের সুনীল ওরফে তিল্লুর দলবল। তখন থেকেই গোগী ও তিল্লুর দলের মধ্যে ঝামেলা। এই ঝামেলাই শেষঅবধি বদলে যায় খুনোখুনিতে।
ছাত্র সংসদের ভোট চলাকালীন কলেজে হামলা চালানো, ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ ওঠে গোগী ও তিল্লুর দলের বিরুদ্ধে। দুই দলের সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যুও হয়। পুলিশের খাতায় নাম উঠে যায় জিতেন্দ্র গোগীর। সেই থেকেই অপরাধ জগতে নাম লিখিয়ে ফেলে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র।
নিজের দল গড়ে গোগী। দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় খুন, জখম, অপহরণ, তোলাবাজি সহ নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। একাধিকবার গ্রেফতারও হয়। ২০১৬ সালে দুটি খুনের ঘটনায় গোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই জেল থেকে ফেরার হয়ে যায় গোগী। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে দেবেন্দ্র প্রধান খুনের মামলায় নাম জড়ায় তার। ওই বছরই অক্টোবরে হরিয়ানার গায়িকা হর্ষিতা দাহিয়া হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে গোগীর নাম। দিল্লি এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠে গোগী। তার মাথার দাম ওঠে চার লাখ টাকা।
এখনও অবধি ১৯টি খুন, তোলাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি সহ একাধিক অপরাধমূলক ঘটনায় নাম জড়িয়েছে জিতেন্দ্র গোগীর। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির নানা ধারায় মামলাও চলছে। দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীর থেকে ৫ কোটি টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগও আছে গোগীর বিরুদ্ধে।
কয়েকমাস আগে গোগীর ডান হাত কুলদীপ মান ওরফে ফাজা খুন হয়। আর আজ দিল্লির রোহিনী আদালতে গোগীকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় বিরোধী গ্যাংস্টার দলের গুন্ডারা। পুলিশ মনে করছে, তিল্লু গ্যাংয়ের গুন্ডারাই এদিন হামলা চালিয়েছে। আইনজীবীর পোশাকে আদালতে ঢুকে গুলি করে খুন করা হয় জিতেন্দ্র গোগীকে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'