দ্য ওয়াল ব্যুরো : আই টুক এ লুক অ্যারাউন্ড, নাথিং টু সি/ বাট দেন আই ফাউন্ড সামবডি লাইক মি...
২০১৬ সালের গানটি গেয়েছিলেন এক অখ্যাত ব্যান্ড গায়ক। গানের নাম 'লিপ সার্ভিস'। চার মিনিট ১০ সেকেন্ডের গান। সোমবার রাতে আমেরিকার পরবর্তী বিদেশ সচিব পদে সেই গায়কের নাম ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। তিনি হলেন অ্যান্টনি ব্লিনকেন। ২০১৬ সালে তিনি 'সিসেম স্ট্রিট' নামে শিশুদের এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানে দেখা গিয়েছিল, কার্টুনের একটি চরিত্রের সঙ্গে তাঁর কথা হচ্ছে। বিশ্ব জুড়ে উদ্বাস্তুদের দুর্দশা নিয়ে তিনি আলোচনা করছেন।
তিনি বলেছিলেন, "রিফিউজিদের নিজেদের দেশ আর নিরাপদ নয়। তাই তারা ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।" কার্টুন চরিত্রকে ব্লিনকেন প্রশ্ন করেন, "তুমি কি ভাবতে পার, নিজের বাড়ি ছেড়ে আসা একজনের পক্ষে কত বেদনাদায়ক হতে পারে?"
বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন উদ্বাস্তুদের বিরোধী। তাঁর আমলে মেক্সিকো সীমান্তে পাঁচিল দেওয়া হয়েছিল। বিদেশিদের মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারেও তিনি খুব কড়াকড়ি করতেন। তাঁর নীতি ছিল, 'আমেরিকা ফার্স্ট'। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কমিক চরিত্রের সঙ্গে কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে ব্লিনকেন আসলে ট্রাম্পের উদ্বাস্তু নীতির সমালোচনা করেছিলেন।
৫৮ বছর বয়সী ব্লিনকেন নিজেকে 'মর্যাল অ্যানিমাল' ভাবতে ভালবাসেন। মর্যাল অ্যানিমাল কথাটির মাধ্যমে বোঝানো হয়, মানুষও একরকম পশু। কিন্তু অন্য পশুদের সঙ্গে তার পার্থক্য হল, সে নৈতিকতায় বিশ্বাসী। কয়েক বছর আগে ওই নামে একটি বই লিখেছিলেন রবার্ট রাইট। বইটি বৌদ্ধধর্ম বিষয়ক। রবার্ট রাইট হলেন ব্লিনকেনের প্রিয় লেখক।
রবার্ট রাইট কিন্তু ব্লিনকেন সম্পর্কে খুব একটা ভাল ধারণা পোষণ করেন না। সম্প্রতি তিনি পাঁচটি বিষয়ে নতুন বিদেশসচিবের মতামত জানতে চেয়েছিলেন। বিষয়গুলি হল, সামরিক ক্ষেত্রে সংযম, সহমর্মিতা, আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক প্রশাসন ও বিশ্ব জুড়ে বন্ধুত্ব ও শান্তির বাতাবরণ তৈরি করা। ব্লিনকেনের মতামত শুনে লেখক বলেছেন, রাজনীতিক হিসাবে তিনি হলেন সি মাইনাস।
রাইটের এই মূল্যায়ন ব্লিনকেন মেনে নিয়েছেন। তিনি টুইট করে বলেছেন, খুবই দুঃখ পেয়েছি। রাইট আমার প্রিয় লেখক। তাঁর 'মর্যাল অ্যানিমাল' একটা দারুণ বই। হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি উন্নতি করব।
পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন খাঁটি ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকের মতোই আচরণ করেছেন ব্লিনকেন। তাঁরা সকলের মতামত শোনেন। কিন্তু নিজেদের মত কাউকে জানান না। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুব সহজেই চেনা যায়। যে কেউ বুঝতে পারে, বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে খুব বড় মনে করেন। তিনি নারীবিদ্বেষী। জাঁকজমক ভালবাসেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের এত সহজে চেনা যায় না।