
নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 21 April 2025 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শালবনিতে ১৬ হাজার কোটিরও বেশি টাকা খরচ করে ৮০০ মেগা ওয়াট করে দু’টি পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করছে জিন্দল গোষ্ঠী (Jindal Power Plant)। সোমবার দুপুরে তারই শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জিন্দল কর্তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও।
এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সজ্জন জিন্দল বলেন, ''আমি ৮-১০ বছর বাদে শালবনিতে এলাম। গত ১০ বছরে বিরাট উন্নয়ন হয়েছে এখানে। তার ক্রেডিট মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। রাজ্যের উন্নতিতে দিদি অনেক কাজ করেছেন আর বাংলার উন্নতি হলে দেশেরও উন্নতি হবে।'' শালবনিতে যে জমিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি হচ্ছে তা আদতে কৃষকদের। এই পরিপ্রেক্ষিতেই জিন্দল গোষ্ঠীর কর্ণধার বলেন, ''এখানকার জমি কৃষকদের। তাই তাঁরা যাতে বেশি উপকৃত হন, সেটা আমাদের দেখতে হবে। আর দিদি সবসময়ে তাঁদের উপকারের কথাই বলেন।'' সজ্জনের কথায়, কৃষকরা যাতে উপকৃত হন সেই কথা তাঁদের বারবার বলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সজ্জন জিন্দল জানান, পাওয়ার প্ল্য়ান্টে কাজের জন্য যত সরঞ্জাম আনা হবে, সব জাপান থেকে আনা হবে। আর যাতে এখানকার স্থানীয় ছেলেমেয়েদের উন্নয়ন হয় তাই জন্য এখানে একটা ট্রেনিং স্কুল খোলা হবে, যেখানে তাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। জেএসডাবলু ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার প্লান্টে কাজ করার সুবিধা পাবেন তাঁরা। তিনি এও জানান, এই রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। তাই বাংলায় পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। আর এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যাতে কোনও রকম দূষণ না হয়, সেটাও খেয়াল রাখা হবে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি সোমবার ২ হাজার একর শিল্পপার্কেরও শিল্যানাস হয়েছে শালবনিতে। স্বভাবতই, এই কারণে শালবনি জুড়ে খুশির আমেজ। কর্মসংস্থানের আশায় বুক বেঁধেছেন স্থানীয়রা। একে ঘিরে আরও একাধিক অনুসারী শিল্পও গড়ে উঠবে বলে অনুমান অনেকের। যার হাত ধরে এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বদল ঘটবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সাল থেকে শিল্পের স্বপ্ন দেখছে শালবনি। বাম আমলে জমি অধিগ্রহণ হলেও স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এর আগে জমিহারাদের বিক্ষোভের পর অধিগৃহীত জমির একাংশে ২০১৬ সালে তৈরি হয়েছিল সিমেন্ট কারখানা। তবে তারপরও অধিগৃহীত জমির প্রায় ৮০ শতাংশ পড়ে ছিল। অবশেষে সেই জমিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠছে।