উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে অতিবৃষ্টির চরম সতর্কতা। দক্ষিণবঙ্গে সাময়িক স্বস্তি, বৃষ্টি কমলেও বাড়বে গরম ও আর্দ্রতা।

আবহাওয়া
শেষ আপডেট: 2 August 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন বিহার ও সিকিমের উপর ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে মুজাফফরপুর, পূর্ণিয়া হয়ে বহরমপুরের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গিয়ে পৌঁছেছে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে শুরু করবে এবং তার ফলে ধীরে ধীরে বাড়বে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে, আর বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে।
মঙ্গলবার ও বুধবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি আরও কমে যাবে। তবে এর ফলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও অনেকটাই বাড়বে। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে ফের একবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। এইদিন নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ এক-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই গুরুতর। শনিবার ও রবিবার কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতিবৃষ্টির চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং ও কোচবিহারেও অতি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। অন্যদিকে মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
রবিবারেও জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতিবৃষ্টির চরম সতর্কতা বজায় থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারেও থাকবে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। সোমবার একইভাবে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে থাকবে অতিবৃষ্টির সতর্কতা। মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্তও উত্তরবঙ্গের এই পাঁচ জেলায়—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি থাকবে। ফলে নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষত তিস্তা, তোর্সা এবং জলঢাকা নদীতে জলস্তর বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর ফলে উত্তরবঙ্গের নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।