এটি বর্ষাকাল, তাই বৃষ্টিপাত হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যে পরিমাণ ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপের প্রভাব দেখা যাচ্ছে, তাতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 August 2025 09:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টির দাপটে কাবু পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। হিমালয়ের পাদদেশে মৌসুমী অক্ষরেখা ও বাংলাদেশে ঘূর্ণাবর্তের জেরে রাজ্য জুড়ে ঢুকছে প্রচুর জলীয় বাষ্প। তার জেরে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে বৃষ্টির পরিমাণ (Rain)।
আবহাওয়া দফতর (Weather Office) জানাচ্ছে, আগামী আরও কয়েকদিন চলবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টি। আদতে এটি বর্ষাকাল, তাই বৃষ্টিপাত হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যে পরিমাণ ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপের প্রভাব দেখা যাচ্ছে, তাতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ছে।
দক্ষিণবঙ্গে কোথায় কেমন বৃষ্টি
বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে বইবে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। বজ্রপাতের সতর্কতাও জারি রয়েছে।
শুক্রবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায়। বাকি জেলাগুলিতে হবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস।
শনিবার থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে শনিবার, রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। দিনের তাপমাত্রা একটু বাড়বে এবং ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও থাকবে।
উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
আজ থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে শুক্রবার, শনিবার ও রবিবারও। সোমবার ফের অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে। মঙ্গলবারও পাঁচ জেলাজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি চলবে।
এই টানা বৃষ্টির ফলে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা সহ উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জলস্তর বাড়বে। প্লাবিত হতে পারে নিচু এলাকা। পার্বত্য এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা থাকছে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে।
বর্ষাকালে কয়েক দিন বৃষ্টিপাত হঠাৎ করে অনেক কমে গেলে তাকে বলে ‘ব্রেক মনসুন’ বা বর্ষার বিরতি। এটি এক ধরনের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। মৌসুমী বায়ুর স্থান পরিবর্তনের ফলে এই বিরতি দেখা দেয়। সাধারণত একটানা ৩০ থেকে ৬০ দিনের মনসুন প্রবাহের মধ্যে এই বিরতি ঘটে। তবে এবার রাজ্যে ফের সক্রিয় বর্ষা।