অরক্ষিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত (India-Bangladesh border) হয়ে উঠেছে উত্তরের কৃষকদের আতঙ্কের কারণ।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 July 2025 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরক্ষিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত (India-Bangladesh border) হয়ে উঠেছে উত্তরের কৃষকদের আতঙ্কের কারণ।
মালদহ (Maldah), কোচবিহার (Cooch Behar) থেকে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), সীমান্তবর্তী গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই অনুপ্রবেশ, ফসল চুরি কিংবা হামলার অভিযোগ উঠে আসছে। ফাঁকা সীমান্ত ঘিরে কাঁটাতারের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে। গ্রামের মানুষজন জমি দিতে রাজি, এমনকী ক্ষতিপূরণ না পেলেও দেশের সুরক্ষার খাতিরে জমি ছাড়তেও প্রস্তুত। কিন্তু, জমি অধিগ্রহণে উদাসীন রাজ্য প্রশাসন—অভিযোগ এমনটাই।
২০১৫ সালের ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্টে ছিটমহল সমস্যা মিটলেও, জলপাইগুড়ির বড়শশী, নাওতারি দেবত্তোর, কাজলদিঘি-সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দারা এখনও জমির নথিপত্র পাননি। ফলে জমি অধিগ্রহণে জট তৈরি হচ্ছে। জেলা প্রশাসন বলছে, ম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু কবে মিলবে নথি? তার উত্তর নেই।
মালদহে আবার সমস্যা অন্য জায়গায়। এখানে জমির কাগজপত্রে তেমন সমস্যা নেই, কিন্তু প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। সিঙ্গাবাদ, তিলাশন, জোতকবির—এইসব এলাকায় গ্রামবাসীরা জমি দিতে রাজি, এমনকী বিএসএফ পিলারও বসিয়েছে। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও অধিগ্রহণের খবর নেই, যোগাযোগও নেই প্রশাসনের।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু রাতের অন্ধকারে নয়, দিনের আলোতেও বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা চাষের জমি থেকে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিএসএফের নজরদারি সত্ত্বেও সীমান্ত খোলা থাকায় সুরক্ষার চরম অভাব।
রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদ খগেন মুর্মু ও রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্র একাধিকবার চিঠি দিলেও রাজ্য জমি দিচ্ছে না। ত্রিস্তরীয় কাঁটাতার বসাতে রাজি নয় বলেই সীমান্ত সুরক্ষা থমকে রয়েছে।
তবে রাজ্যের পাল্টা বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা সচেতন। জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। আর এখানেই স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সব পক্ষই সম্মত, তাহলে কেন এখনও অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া গড়ে উঠছে না?
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গে। যার একটা বড় অংশ উত্তরবঙ্গের। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি এখনই তৎপর না হয় প্রশাসন, তাহলে আগামী দিনে তা আরও বড় সঙ্কটের রূপ নিতে পারে।