দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেও শোনা যেত, নেহরু-গান্ধী পরিবারের সন্তান বরুণ গান্ধী বিজেপির মধ্যে বিদ্রোহ করেছেন। তিনি যে কোনও সময় কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢালাও প্রশংসা করলেন বরুণ। তিনি স্পষ্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের জন্য যে গৌরব এনেছেন, তা আর কোনও প্রধানমন্ত্রী পারেননি। বরুণের পরিবারের অনেকে অতীতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী। বরুণ কৃতিত্বের বিচারে তাঁদের ওপরে মোদীকে স্থান দিয়েছেন।
পিলভিতে এক জনসভায় বরুণ বলেন, সত্যি কথা বলতে কি, আমার পরিবারের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু মোদী দেশের জন্য যে প্রেস্টিজ এনেছেন, দীর্ঘকাল কেউ পারেননি। তিনি দেশের জন্যই বেঁচে আছেন। দেশের জন্য মৃত্যুবরণ করবেন। দেশের কথা ছাড়া তিনি আর কিছু ভাবেন না।
https://twitter.com/varungandhi80/status/1111618177409134594
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তুলনা করেন বরুণ। তিনি বলেন, বাজপেয়ীজি ছিলেন সাধারণ পরিবারের মানুষ। ব্যাপক দারিদ্রের মুখে কখনও পড়েননি। কিন্তু মোদীজি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবার থেকে এসেছেন। গত পাঁচ বছরে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করতে পারেনি। তাঁর পরিবারে কেউ নেই। তিনি দুর্নীতি করবেন কার জন্য?
৩৯ বছরের বরুণ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর খুড়তুতো ভাই। তিনি নেহরু-গান্ধী পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের রাজনীতিক। ১৯৮০ সালে তাঁর বাবা সঞ্জয় গান্ধী বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পরেই বরুণের মা মানেকা গান্ধীর সঙ্গে পরিবারের দূরত্ব বাড়তে থাকে। পরে মা ও ছেলে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার মানেকা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুলতানপুর থেকে। পিলভিত থেকে প্রার্থী হয়েছেন বরুণ। গতবার বরুণ সুলতানপুর থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। মানেকা ছিলেন পিলভিতের প্রার্থী। পাঁচ বছরে সুলতানপুরে বরুণের জনসমর্থন ব্যাপক কমেছে বলে বিজেপির ধারণা। সেজন্য তাঁকে এবার পিলভিতে দাঁড় করানো হয়েছে।
ভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হওয়ার পরে বরুণ টুইট করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি এবং মাননীয় দলীয় সভাপতি শ্রী অমিত শাহজিকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা আমার ওপরে আস্থা রেখেছেন। পিলভিতে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত। ওই কেন্দ্রের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক যোগাযোগ র্যেছে।
গত কয়েক বছরে একাধিকবার প্রকাশ্যে নিজের দলের সমালোচনা করেছেন বরুণ। সেজন্য এবার তাঁকে ভোটে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়নি। কয়েকমাস আগে তিনি অভিযোগ করেন, আমি সাংসদদের বেতন বৃদ্ধির সমালোচনা করেছিলাম। তারপরে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আমাকে ফোন করা হয়।
পিলভিত কেন্দ্রে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল।