দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের আলোয় তাজমহল দেখার অভিজ্ঞতাই আলাদা। ‘কালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জল’ তাজমহল যেন আরও মায়াবী হয়ে ওঠে চাঁদের আলোয়। ভোরের আলোতেও অন্য রূপ তাজমহলের। সেই রূপের সঙ্গে আবার রাতের তুলনা হয় না। উত্তরপ্রদেশ সরকার এবার আরও একটি ভিউপয়েন্ট খুলে দিল এই মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য।
শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে মহতাব বাগ ভিউ পয়েন্ট উদ্বোধন করে পর্যটকদের জন্য খুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী গিরিরাজ সিং ধর্মেশ। সকাল সাতটা থেকে বেলা দশটা এবং সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে মহতাব বাগ ভিউ পয়েন্ট। প্রবেশমূল্য ২০ টাকা।
ধর্মেশ বলেন, “আগ্রা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এই ভিউ পয়েন্টটিকে দর্শকদের উপযোগী করে তুলেছে। আমি চাই আগ্রায় আরও বেশি করে ভিউ পয়েন্ট তৈরি হোক, আরও বেশি সংখ্যায় এখানে বিদেশি পর্যটক আসুন।”
অস্ট্রেলিয়া থেকে আগ্রায় ঘুরতে আসা টেন ওয়াটসন বলেন, “আমি মেলবোর্ন থেকে আসছি। আমি আগেও তাজমহল দেখেছি, তবে এই ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখিনি।” দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা অমৃত সাঁধু বলেন, “পর্যটনের বিচারে ভালো পদক্ষেপ, রাতে যদি তাজমহল দেখতে পাই তা হলে অনেক দিনের ইচ্ছে পূরণ হবে।”
তাজমহলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আগ্রার দূষণ। দূষণের ফলে তাজমহল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই তাজমহলে দু’টি বায়ুশোধন যন্ত্র বসানো হয়েছ। যমুনা নদীও এখন দূষণের কবলে। সেটাও চিন্তার কারণ। তাজমহলের আশপাশে এখন ব্যাটারিচালিত গাড়ি চালানো হয় দূষণ কমানোর জন্য।
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের তৈরি এই সৌধে তাঁর স্ত্রী মুমতাজ বেগমের ও তাঁর নিজের সমাধি আছে। তাজমহলের প্রধান স্থপতি ছিলেন ঈশা খাঁ। যমুনা নদীর তীরে শ্বেতপাথরের তৈরি এই সৌধ দেখতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক আসেন। উত্তর ভারতে এসেছেন অথচ তাজমহল দেখেননি, এমন বিদেশি পর্যটক পাওয়াই মুশকিল। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা রয়েছে এই সৌধের। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, ইদমাতদ্দৌল্লার সমাধির আদলেই তৈরি করা হয় এই সৌধ। এই সৌধটি মারকানা থেকে আনা শ্বেতপাথরে তৈরি। তাজমহল নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে। এ নিয়ে অনেক কবিতা-গানও রচিত হয়েছে।
তাজমহলের ভিতরে দামি ধাতু ও মূল্যবান পাথরের অলঙ্করণ ছিল, সেই চিহ্ন আজও আছে। তবে সেই অলঙ্করণ খুলে নিয়ে গেছে দুবৃত্তরা।