দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু বছরের আবদুল্লা হাসানের আয়ু আর মাত্র কদিন। ক্যালিফর্নিয়ার এক হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে সে। সঙ্গে রয়েছেন বাবা। কিন্তু মা আছেন সেই সুদূর ইয়েমেনে। সন্তানের শেষ কদিনে তার পাশে থাকার অধিকার থেকে তিনি বঞ্চিত। কেন? কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন আইন। সেই আইন যেখানে বেশ কিছু মুসলিম দেশ থেকে কাউকে আমেরিকায় প্রবেশাধিকার দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।
জন্ম থেকেই জটিল এক ব্রেনের অসুখে ভুগছে সে। দিনে দিনে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। আবদুল্লার বাবা-মা তাকে মিশরে নিয়ে যান। আবদুল্লার বাবা আলি হাসান নিজে আমেরিকায় জন্মেছেন। ফলে তিনি মার্কিন নাগরিক। ছোট্ট আবদুল্লাও মার্কিন নাগরিক। ফলে তাঁদের ক্যালিফর্নিয়ায় থাকতে কোনও অসুবিধে নেই। তিন মাস আগে আবদুল্লাকে নিয়ে তার বাবা আমেরিকা আসেন। কিন্তু সমস্যাটা হলো আবদুল্লার মাকে নিয়ে। সাইমা সোয়াইলে ইয়েমেনের নাগরিক। তাঁকে আমেরিকায় ঢুকতে দিতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন।
কিন্তু ক্যালিফর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ডাক্তারেরা বলেছেন, আবদুল্লার আর বাঁচবে না। লাইফ সাপোর্ট দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রেখে কোনও লাভ নেই। আবদুল্লার মা চান শেষবারের মতো তাঁর সন্তানের পাশে যেতে, হাতটা ধরে থাকতে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কী নিয়মে আটকাচ্ছে আবদুল্লার মায়ের আমেরিকা যাওয়া?
প্রেসিডেন্ট হয়েই ডোলান্ড ট্রাম্প অভিবাসন নিয়মকানুন বদলাতে শুরু করেন। নানা রকম উদ্ভট আইন এনে প্রধানত মুসলিম দেশগুলি থেকে অভিবাসী ও পর্যটক আসা বন্ধ করে দেন। তাঁর এই মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আইন ও নীতির কঠোর সমালোচনা হয় বিশ্বজুড়ে, এবং আমেরিকাতেও। কিন্তু তাতে দমার মানুষ নন ট্রাম্প। যে সব দেশ থেকে আমেরিকায় ঢোকা পুরোপুরি নিষিদ্ধ তার মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন, ভেনেজুয়েলা ও উত্তর কোরিয়া।
যে সংগঠনটি আবদুল্লার মায়ের আমেরিকায় প্রবেশ করার ব্যাপারে সাহায্য করছে, সেই আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন কাউন্সিলের সদস্য সাদ সোয়াইলেম বলেন, ট্রাম্পের এই নীতি অকল্পনীয় ভাবে নিষ্ঠুর এক মাকে তার মৃত্যুপথযাত্রী সন্তানের কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছে এই নীতি।
মার্কিন বিদেশ দফতরের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা সবসময় চেষ্টা করেন বৈধ আবেদনপত্রগুলি খতিয়ে দেখে অনুমতি দিতে। কিন্তু তাঁদের দেশের নিরাপত্তা সবার আগে।