দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাড়ির নানা কাজকর্ম ও সন্তান পালনের জন্য মহিলারা যে শ্রম করেন, তার জন্য বেতন পান না কেউই। কিন্তু সেই কাজের একটা আর্থিক মূল্য তো আছেই। অক্সফাম নামে এক সংস্থার হিসাবমতো, বিশ্ব জুড়ে মহিলারা গৃহস্থালির কাজে যে শ্রম দান করেন, তার মূল্য ১০ হাজার কোটি ডলার। অ্যাপলের মতো বহুজাতিক সংস্থায় বছরে যে পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়, মহিলাদের শ্রমদানের আর্থিক মূল্য তার ৪৩ গুণ।
ভারতের মতো দেশে মহিলারা বাড়ির কাজে ও সন্তানপালনে যে শ্রমদান করেন, তা দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের ৩.১ শতাংশ। শহরের মহিলারা দিনে ৩১২ মিনিট ও গ্রামের মহিলারা দিনে ২৯১ মিনিট শ্রমদান করেন। তুলনায় শহরের পুরুষরা দিনে শ্রম দেন ২৯ মিনিট, গ্রামের পুরুষরা দান করেন ৩২ মিনিট।
কিছুদিনের মধ্যে সুইৎজারল্যান্ডে বৈঠকে বসছে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের কর্তারা। তার আগে অক্সফাম জানিয়েছে, আর্থিক অসাম্যের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মহিলারা। ভারতের মতো দেশে মহিলারা বেশিরভাগ সময় শ্রমের মূল্য পান না। এমনকী ধনী পরিবারের মহিলারাও নানা ক্ষেত্রে অসাম্যের শিকার হন। এদেশে ১১৯ জন বিলিওনেয়ার অর্থাৎ ১০০ কোটি বা তার বেশি ডলারের মালিক আছেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা আছেন মাত্র ন’জন।
ভারতে জাতপাত, শ্রেণি, ধর্ম, বয়স এবং লিঙ্গ, এই সবের ভিত্তিতে মানুষ অসাম্যের শিকার হয়। প্রতিবেশী চিন বা বাংলাদেশের তুলনায় ভারতে মহিলারা অসাম্যের শিকার হন বেশি।
অক্সফাম বলেছে, ভারতে মহিলাদের পক্ষে অনেক আইন তৈরি হয়েছে বটে কিন্তু তা প্রয়োগ করা খুবই সমস্যার ব্যাপার। কারণ এদেশের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক। বিভিন্ন নারী সংগঠন এবং আইনজীবীরা ১৭ বছর ধরে চেষ্টা করার পরে কাজের জায়গায় যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে আইন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আইন তৈরি হওয়ার পাঁচ বছর বাদে ‘মি টু’ আন্দোলন হল। এতদিনে সংগঠিত ক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা রোখার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ মহিলা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। তাঁদের যৌন হেনস্থা রোখার জন্য কোনও ব্যবস্থা নেই। এই অবস্থায় নির্যাতন এড়াতে মহিলারা কাজ ছেড়ে দেন। অথবা মুখ বুজে সব সহ্য করেন।
অক্সফাম থেকে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড় এবং উত্তরপ্রদেশে ১ হাজারটি বাড়িতে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, ৫৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কোনও মহিলা যদি সন্তান পালনে গাফিলতি দেখান, তাঁকে কটূক্তি করা চলে। ৩৩ শতাংশ মনে করেন, সন্তান পালনে গাফিলতি দেখালে মারধর করা উচিত।