
শেষ আপডেট: 2 August 2023 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কলকাতা: তিলোত্তমা কলকাতা থেকে জেলা, দিকে দিকে জলাশয় (Baruipur Pond) বোজানোর অভিযোগ নতুন নয়। এবার এই পুকুর বোজানোর বিরুদ্ধে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
আবর্জনা ফেলে বারুইপুরের স্থানীয় কলপুকুর বুজিয়ে ফেলছে বলে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আইনজীবীদের তরফে রুজু হয়েছিল একটি জনস্বার্থ মামলা। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কাউন্সিলের সদস্য এবং বারুইপুর জলাশয় বাঁচাও কমিটির উদ্যোক্তা কৌশিক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আইনজীবী গৌতম সর্দার ও আরও কয়েকজন আইনজীবী মিলে সেই মামলা লড়ছিলেন। ওই মামলার শুনানিতেই নির্দেশ দিল আদালত।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনও এলাকার জলাশয়ে স্থানীয় লোকজন বা কোনও সংস্থা যদি আবর্জনা, অব্যবহৃত জিনিস ফেলে তবে সেই জলাশয় পরিষ্কারের দায় তাদেরই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে জলাশয় পরিষ্কার করার খরচ। প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) বলেন, ‘পুকুর বোজাতেই যে এমন ময়লা ফেলা হচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই।’

বারুইপুরের রেললাইন তৈরির সময়েই কাটা হয়েছিল স্টেশনের পাশের কলপুকুর। কয়েক বছর আগেও পরিযায়ী পাখিরাও আসত এই জলাশয়ে। অভিযোগ, ইদানীং পরিকল্পিত ভাবে বোজানো হচ্ছিল পুকুরটি। পুরসভা সম্পূর্ণ উদাসীন। সেই জায়গা থেকেই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়।
আরও পড়ুন: কী কারণে দেরিতে চলে ভারতীয় রেল, সামনে এল ‘আসল’ তথ্য

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কাউন্সিলের সদস্য বলছেন, মাঝে কোভিডের জন্য সবকিছু বন্ধ ছিল। কিন্তু আবারও এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন, বারুইপুর হাইস্কুলের ছাত্রবৃন্দের উদ্যোগে গত ৬ জুন আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়। এর পরেই জনস্বার্থ মামলা রুজু করেন আইনজীবীরা সেই মামলার শুনানিতেই জলাশয় অবিলম্বে পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
অভিযোগ ছিল, বারুইপুর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন প্রায় ৩০ বিঘা জলাশয় চক্রান্ত করে বুজিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে ওই পুকুর পরিষ্কারের জন্যে ইস্টার্ন রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের প্রতিনিধি, বারুইপুরের বিডিও, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গড়েছে আদালত। আগামী দু’মাসের মধ্যে পরিষ্কারের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে।
ডিভিশন বেঞ্চের (Calcutta High Court) নির্দেশ, কেউ বা কারা যদি জলাশয়ে ময়লা ফেলার জন্য দায়ী হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পারবেন জেলাশাসক। জঞ্জাল পরিষ্কারের খরচও তাদের কাছ থেকেই চাওয়া হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।