
শেষ আপডেট: 27 December 2023 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রকাশ্য সভায় তৃণমূলেরই সাংসদ শিশির অধিকারীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন তিনি। এছাড়া 'গুরুদেব' বলেও সম্বোধন করেছিলেন তাঁকে। সেই ঘটনায় শুক্রবার রাতেই কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ঘাসফুল নেতা সুবল মান্নাকে শো কাজ করেছিল তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব। এবার তাঁকে সরাসরি পদ ছাড়ার নির্দেশ দিল শাসক দল।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। সেদিন বিকেলে কাঁথির একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী। ছিলেন সুবল মান্নাও। ঘনিষ্ঠ মহলে সুবল শিশিরকে তাঁর রাজনীতির 'গুরু' বলে মানেন। এদিন ওই স্কুলের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেও তাঁকে গুরুদেব বলে ডেকে বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন সুবল মান্না। এতেই বিতর্ক শুরু হয়।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাবা তথা একদা তৃণমূলের বিশ্বস্ত সৈনিক শিশির অধিকারী খাতায় কলমে এখনও তিনি তৃণমূলের সাংসদ। তবে আদৌ তিনি কতটা ঘাসফুলে, আর কতটা পদ্মে, সে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপির বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠানে দেখা গেছে তাঁকে, তাঁর বক্তব্যেও সেই সুর শোনা গেছে। স্পষ্টতই, তৃণমূলের প্রবীণ ঘোড়াকে নিয়ে অসন্তুষ্ট দল। এমনকী, তাঁর সাংসদ পদ খারিজ করার জন্য লোকসভায় আর্জিও জানিয়েছিল তৃণমূল।
এহেন 'তৃণমূল' সাংসদ শিশির অধিকারীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করায় সুবল মান্নার উপর প্রবল ক্ষুব্ধ হয়েছিল ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। তার জেরে শুক্রবার রাতেই রাজ্য নেতৃত্বের তরফে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয় সুবলকে। সাংবাদিক সম্মেলন করে সে কথা জানিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি পীযূষ পন্ডা।
যদিও তখন সুবল জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও নোটিস পাননি। এছাড়া তাঁর দাবি ছিল, মঞ্চে উপস্থিত বর্ষীয়ান নেতাকে সম্মান দেখাতেই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন তিনি, তার বেশি কিছু নয়। জানিয়ে দিয়েছিলেন, যা বলার নেতৃত্বকেই বলবেন, "যিনি আমাকে চেয়ারম্যান করেছেন, তাঁকেই কৈফিয়ত দেব।" তবে তাঁর কৈফিয়তে দল যে সন্তুষ্ট নয়, তা স্পষ্ট।