
শেষ আপডেট: 30 January 2024 20:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর খানেক আগের ঘটনা। দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া আড্ডায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, লোকসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় আমূল বদল দেখা যাবে। তারপর অনেকটা সময় গড়িয়েছে। লোকসভায় প্রার্থী বাছাইয়ে অভিষেকের কথা আদৌ কতটা চলবে তা নিয়েই বরং এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে দলের মধ্যে। কেউ কেউ মনে করছেন, এ ব্যাপারে শীর্ষ দুই নেতৃত্বের মধ্যে এখনও বেশ টানাপড়েন চলছে। এরই মধ্যে আবার রাজ্যসভার নির্বাচনের প্রার্থী নিয়েও জল্পনা শুরু হয়ে গেল শাসক দলে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় পাঁচ জন সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এপ্রিলে। সেজন্য ভোট হবে ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ। ৮ তারিখ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে। ১৫ তারিখের মধ্যে মনোনয়ন পেশ করতে হবে। বাংলা থেকে ওই পাঁচ আসনে বর্তমানে সাংসদ রয়েছেন তৃণমূলের নাদিমুল হক, শুভাশিস চক্রবর্তী, শান্তনু সেন ও আবির বিশ্বাস। এ ছাড়া রয়েছেন কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তৃণমূলের নাদিমুল হকের ফের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আবির বিশ্বাস, শান্তনু সেন এমনকী শুভাশিস চক্রবর্তীর পুনরায় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এখনও ষোলো আনা নিশ্চয়তা হয়তো নেই। ওই সূত্রের দাবি, রাজ্যসভায় আবির বিশ্বাসের পারফরমেন্সে খুব একটা সন্তুষ্ট নন দলের শীর্ষ দুই। আবির আগে রানাঘাট দক্ষিণ থেকে বিধায়ক ছিলেন। তাঁকে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করে দিলে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না।
তবে আবিরকে রাজ্যসভা থেকে সরানো হলে একজন তফসিলি জাতির নেতাকে খুঁজতে হবে। এ ছাড়া শুভাশিস চক্রবর্তী ও শান্তনু সেন যে রাজ্যসভায় খুব সক্রিয় ছিলেন এমন ধারণাও দলের অনেকের নেই। দলের সাংগঠনিক উপযোগিতার কথা মাথায় রেখে তাই মুখ বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে একটা শ্বাশ্বত সত্য শাসক দলে রয়েছে। তা হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় প্রার্থী হিসাবে শেষমেশ কাদের বাছবেন তা আগে থেকে কখনওই ষোলো আনা জানা যায় না। অতীতে তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
তা ছাড়া এবার একটা সমস্যাও রয়েছে। বিধানসভায় সংখ্যার জোরে বিজেপি একটি আসন পাবে। অর্থাৎ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির আসনটি বিজেপির কাছে যাবে। কৌতূহলের বিষয় হল, অভিষেকের কী হবে?
রাজ্য বিধানসভায় এখন কংগ্রেসের ঝুলিতে খাতায় কলমে একটি আসন রয়েছে। সেই বিধায়ক, তথা বাইরন বিশ্বাস ইতিমধ্যে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। গত বার রাজ্যসভা ভোটের সময়ে কংগ্রেসের হিসাব মতো প্রায় চল্লিশ জন বিধায়ক ছিলেন। বাকি সমর্থন জুটিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি নেই। অথচ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির সঙ্গে তৃণমূলের এখন যা সম্পর্ক তাতে তাঁকে জোড়াফুল প্রতীকে প্রার্থী করে দেওয়া হবে কিনা তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে শাসক দলে। মাসখানেক আগে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট-আলোচনার সময়ে তৃণমূলেরই কেউ কেউ দিল্লিতে এ খবর ভাসিয়ে দিয়েছিলেন যে অভিষেককে প্রার্থী করতে পারেন দিদি।
প্রসঙ্গত, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এখন শুধু রাজ্য সরকারের আইনজীবী নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে ধারাবাহিক ভাবে মামলা লড়ছেন এই দুঁদে আইনজীবী। সন্দেহ নেই অভিষেককে প্রার্থী করতে চাইলে, রাজ্যসভায় তৃণমূলের বর্তমান চার জনের মধ্যে একজনকে এমনিতেই বাদ দিতে হবে।
সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা নিয়েও এখন জবর আলোচনা শুরু হয়েছে শাসক দলের মধ্যে। সম্ভবত ১০ বা ১১ তারিখ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।