দ্য ওয়াল ব্যুরো : পেগাসাস নিয়ে নানা ভুল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সন্দেহ নেই। তা বলে পেগাসাসের নির্মাতা এনএসও মোটেই নিরীহ কোম্পানি নয়। বৃহস্পতিবার একটি সর্বভারতীয় নিউজ চ্যানেলে এই মন্তব্য করেন ইজরায়েলের সাংবাদিক ওমের কবির। এনএসও-র দাবি, তারা অপরাধী ও সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য ওই স্পাইওয়ার তৈরি করেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের নেতাদের ওপরে নজর রাখার জন্য ওই স্পাইওয়ার ব্যবহৃত হত। এনএসও জেনেশুনেই সৌদি আরবকে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও প্রতিবাদীদের খুঁজে বার করতে সাহায্য করেছে। এর ফলে জামাল খাসোগির মতো কোনও কোনও সাংবাদিককে খুনও হতে হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পেগাসাসের মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে অন্তত ৫০ হাজার ফোনে আড়ি পাতা হত। ফ্রান্স ও ইরাকের প্রেসিডেন্টের ফোনও পেগাসাসের থেকে রেহাই পায়নি। মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মহম্মদ ও অন্তত ১০ জন প্রধানমন্ত্রীর ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে ওই স্পাইওয়ারের মাধ্যমে। আজারবাইজান, বাহেরিন, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, ভারত, মেক্সিকো, মরক্কো ও রুয়ান্ডার মতো দেশে সাংবাদিক ও প্রতিবাদীদের ওপরে ওই স্পাইওয়ারের মাধ্যমে নজর রাখা হয়।
এনএসও গ্রুপ সাফাই দিয়ে বলেছে, পেগাসাসের অপব্যবহার হয়েছে কিনা তার তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে এই সফটওয়্যার সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়াও হতে পারে। ২০১৬ সালের ২৫ অগস্ট, এই গ্রুপের বানানো ‘পেগাসাস’ সফটওয়্যারকে কুখ্যাত ম্যালওয়্যার হিসেবে চিহ্নিত করে ‘সিটিজেন ল্যাব।’ সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সফটওয়্যার একবার ইনস্টল হয়ে গেলে আইফোনের অপারেটিং সিস্টেস আইওএস-কে তছনছ করে দেয়। ফলে আইমেসেজ, জিমেল, ভাইবার, ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রাম, স্কাইপি-সহ যাবতীয় অ্যাপের ব্যক্তিগত তথ্য মুহূর্তেই বেহাত হয়ে যায়। এমনকি হ্যাকাররা সহজেই জেনে নিতে পারে মোবাইলের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডও।
পেগাসাস নিয়ে বর্তমানে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। দেশের সরকার ও বিরোধীপক্ষের একাধিক রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, শিল্পপতি সহ নামী ব্যক্তিত্বদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্তত ৩০০টি ভেরিফায়েড মোবাইল নম্বর টার্গেট করা হয়েছে। এই ব্যাপারে কানপুর আইআইটির সাইবার বিশেষজ্ঞ ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক সন্দীপ শুক্ল বলেছেন, ফোনে আড়ি পাতার নতুন কৌশল আয়ত্ত করেছে এনএসও গ্রুপ। তাদের তৈরি পেগাসাস এখন অনেক অপডেটেড। তাই ম্যাকাফে বা অন্যান্য কম্পিউটার অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা কোম্পানিগুলোও ফাঁপরে পড়েছে। কীভাবে এই ম্যালওয়্যারকে রোখা যাবে, সে প্রযুক্তি আপাতত তাদের কাছে নেই।