শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে অনুষ্ঠিত হল চিনা ভাষা প্রতিযোগিতার অষ্টম শুয়ানচাং কাপ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 26 November 2025 00:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল চিনা ভাষা প্রতিযোগিতার অষ্টম শুয়ানচাং কাপ। ভারতের প্রথমসারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ৪০ জন পড়ুয়া চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এই প্রতিযোগিতার আয়োজক কলকাতার চিনা কনস্যুলেট। সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে এই চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিনা কন সিলেটের সঙ্গে যৌথ আয়োজক ছিল বিশ্বভারতীর চিনা ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষাকেন্দ্র চিনা ভবন কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অংশগ্রহণকারী অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হল, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, ঝাড়খণ্ড কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মহাত্মা গান্ধী আন্তর্জাতিক হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় চিনের উপ কনসাল জেনারেল ছিন ইয়ং এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. প্রবীর কুমার ঘোষ। প্রায় ২০০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ছিন বলেন যে শুয়ানচাং ছিলেন চিন ও ভারতের সভ্যতার মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক শিক্ষার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আর বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক যুগে চিন-ভারত বন্ধুত্বের এক অগ্রগামী প্রবক্তা, যার প্রভাব আজও গভীর। বর্তমানে দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনার অধীনে চিন-ভারত সম্পর্ক স্থিরভাবে উন্নতি করছে। সম্প্রতি চিনা কমিউনিস্ট পার্টির বিংশতম কেন্দ্রীয় কমিটির চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে পনেরোতম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে; যা নির্দেশ করে যে চিনের উচ্চ-গুণমানসম্পন্ন উন্নয়ন চিন-ভারত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। ভাষা হল সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সভ্যতার পারস্পরিক শিক্ষার সেতুবন্ধন। তাই শিক্ষার্থীদের চিনা ভাষা ভালোভাবে শিখে আধুনিক যুগের 'শুয়ানচাং' হয়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়। ডেপুটি কনসুলেট জেনারেল দুই দেশের যুবসমাজের মধ্যে বিনিময় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা আরও জোরদার করার সংকল্প ঘোষণা করেন।

বিশ্ব ভারতীর উপাচার্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতি দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বলেন, ভারত ও চিনের হাজার বছরের সুসম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ইতিহাস রয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, দুই দেশের তরুণ প্রজন্ম যাতে পরস্পরের ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করে তোলে এবং সম্মিলিতভাবে ভারত-চিন সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে
প্রতিযোগিতা দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রারম্ভিক এবং উন্নত পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রতিযোগীরা চিনা ভাষায় নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তাঁদের প্রতিভা উপস্থাপন করেন, যা অনুষ্ঠানটিকে অত্যন্ত সফল করে তোলে। প্রতিযোগিতা শেষে মি. ছিন এবং অন্যান্য অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
শান্তিনিকেতন সফরে ছিন সেখানকার ট্রাইবাল অ্যাকাডেমির ফুটবল দলের জন্য ক্রীড়া জার্সি প্রদানের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নবীন খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাপ করেন এবং বলেন কিক করে ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করেন।