
শেষ আপডেট: 5 September 2023 09:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক দিবস (teachers day 2023) মানে শুধু কি ক্যালেন্ডারের একটা তারিখ? কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের কুন্নাথুমালায় আদিবাসী সংসারগুলো এ সব তারিখের ধার ধারে না মোটেও (teacher walk row trek for coming school)। ওঁদের কাছে কে আর ঊষাকুমারী আছেন তো! রোজই তাই শিক্ষক দিবস (teachers day 2023) ওঁদের কাছে। ঊষাকুমারী ‘অগস্ত্য এগা অধ্যাপক বিদ্যালয়’-এ পড়ান। পড়ান তো অনেক শিক্ষকই, কিন্তু পায়ে হেঁটে, নৌকো চালিয়ে, পাহাড়ে চড়ে (teacher walk row trek for coming school) ক’জন শিক্ষকই বা বছরের পর বছর পড়াতে যেতে পারেন? তাও কোনও মাসে পারিশ্রমিক পান, কখনও আবার এক-দু মাস বাকি থেকে যায় বেতন। তিনি একাই সেই স্কুলে শিক্ষক, অধ্যক্ষ, পিয়ন এবং মিড ডে মিলের ইনচার্জের দায়িত্ব সামলান সারা বছর।

তাই তো শরীরে হাঁপানিকে বয়ে নিয়েও ২০০২ সাল থেকে তাঁর এই রোজকার রুটিনে কোনও পরিবর্তন আসেনি। এখন যতটা রাস্তা স্কুটারে যান, সেই রাস্তা তিনি হেঁটে পেরোতেন আগে। ইদানীং কিনেছেন স্কুটার। সামজসেবাতেই ঊষার (Ushakumari) আনন্দ। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে এই কাজে ব্রতী। একটি ইংরেজি দৈনিকে তিনি বলেছেন, তাঁর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় পাশ করা হয়ে গিয়েছিল, চেয়েছিলেন পুলিশের চাকরি করতে। কিন্তু সে সময় পরিবার থেকে সেটা কেউ চাননি। তাই আম্বুরি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ শুরু করেন তিনি। দেখেন, প্রত্যন্ত মানুষ, আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে শিক্ষার (Education) আলো পৌঁছয়নি। তাই তাঁদের কাছে ঊষা আলো পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। তাঁদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে কম কসরত করতে হয়নি তাঁকে। প্রথম দিকে সে সব পরিবারের বাড়ির বারান্দাতেই তিনি পৌঁছে যেতেন শিক্ষা দিতে। কারণ দুর্গম রাস্তা এবং কেরলের হাতির হানার ভয়ে বাচ্চাদের বাড়ি থেকে বের করতেন না ভীত মা বাবারা। এভাবে ৪ বছর কঠোর পরিশ্রম করার পর আজকের এই স্কুল তিনি সেই শিশুদের জন্য বানাতে পেরেছেন। এখনও পর্যন্ত ক্লাস ওয়ান থেকে ফোর পর্যন্ত মোট ১৫ টি আদিবাসী বাচ্চা (Students) আছে এই স্কুলে (teachers day 2023)।
আরও পড়ুন: দুটি হাত নেই, পায়ে লিখেই ভবিষ্যৎ গড়েন বর্ধমানের শিক্ষক জগন্নাথ
এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে (Students) জীবনের জন্য তৈরি করেছেন ঊষা। তিনি বলছেন, “ এ এক পরম তৃপ্তি। যখন দেখি কোনও সরকারি অফিসে গেছি, আমার ছাত্রীই সেখানে কাজ করছেন, আমাকে দেখে সে খুব যত্ন করে বসাচ্ছে, সম্মান দিচ্ছে, তখন তার কাছে জীবনের কোনও বাধাই আর কঠিন মনে হয় না।”

তিনি আরও জানান, ২০০৩ সালে যে সব ছাত্র ছাত্রী পাশ করেছেন, তাঁরা প্রায় সকলেই জীবনে এখন প্রতিষ্ঠিত। তাঁর ছেলেও শিক্ষক, তিনিও মাকে মাঝেমাঝে সাহায্য করে দেন শিক্ষকতায়। আবার তাঁর হাতে তৈরি ছাত্র-ছাত্রীরাও অনেকে শিক্ষকতা করছে। এঁরা প্রত্যেকেই ছোট বাচ্চাদের শিক্ষা (Students) দিয়ে জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ঊষাকুমারীর (Ushakumari) কথায়, “এর চেয়ে আনন্দের আর কিছুই নয় জীবনে। তাই যখন মনে হয়, নিজের ঘর থেকে কখনও কখনও খাবার নিয়ে গেছি এই শিশুদের জন্য, নিজের টাকা দিয়ে ওদের বই খাতা কিনে দিয়েছি, তখন খুব শান্তি পাই।”

তিনি আরও বলছেন, এই বাচ্চারা যে ভাষাতে কথা বলতে পারে সহজে, বুঝতে পারে সহজে, সেই ভাষাতেই ওদের বুঝিয়ে নাচ, গান, আঁকা, নাটক শিখিয়ে (Education) তিনি প্রস্তুত করে দেন। যাতে ক্লাস ফোরের পরে কেরলে যে কোনও স্কুলে তারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় । আর শিক্ষক দিবসে ঊষা বার্তা দিচ্ছেন, “শিক্ষক মানেই তাঁকে খুব গভীরভাবে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য। আর ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যেই গর্ব হবে আমাদের। ”
ঊষা আন্টি এভাবেই তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আলো ছড়াচ্ছেন বছরের পর বছর (teachers day 2023)।