দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার সিডনিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১২ জন। রবিবারের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনিতে এখন লকডাউন চলছে। নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেটের প্রিমিয়ার গ্ল্যাডিস বেরেজিক্লিয়ান বলেন, “আমরা চাই, মানুষ ঘরের ভিতরে থাকুক। তাহলে ভাইরাস ছড়াতে পারবে না।” জুনের মাঝামাঝি শহরে করোনা আক্রান্তদের শরীরে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। গত সপ্তাহের শেষে ওই ভ্যারিয়ান্টের প্রকোপে মারা গিয়েছেন একজন। এর আগে এপ্রিলে শহরে একজন মারা গিয়েছিলেন।
সিডনির লোকসংখ্যা ৬০ লক্ষ। গত ২৬ জুন সেখানে লকডাউন জারি হয়। কবে লকডাউন শেষ হবে জানানো হয়নি। বেরেজিক্লিয়ান বলেন, আরও কিছুদিন মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হবে। অস্ট্রেলিয়াতে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে দেরিতে। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের গাফিলতিতেই দেশে ভ্যাকসিনের যথেষ্ট সংখ্যক ডোজ আনা যায়নি।
ব্লুমবার্গের ভ্যাকসিন ট্র্যাকার জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র ১৭.৮ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। অন্যদিকে ব্রিটেনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৬০.৪ শতাংশ এবং আমেরিকায় টিকা নিয়েছেন ৫২.২ শতাংশ। মানুষকে ভ্যাকসিন নিতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সরকার টিভিতে একটি বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। তাতে অভিনয় করেছেন একজন নামি অভিনেত্রী। তাঁকে দেখা যাচ্ছে, অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করছেন। ওই বিজ্ঞাপনের সমালোচনা হয়েছে নানা মহলে।
ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক বিল বোটেল বলেন, “সিডনির অবস্থা এখন খুব খারাপ। ১২০ বছরের মধ্যে এত প্রবল স্বাস্থ্য সংকটে পড়েনি ওই শহর।” তিনি চান, মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করা হোক। তবেই লকডাউন দ্রুত শেষ হবে। সিডনির এএমপি ক্যাপিটাল ইনভেস্টর লিমিটেডের চিফ ইকনমিস্ট শেন অলিভার বলেন, “লকডাউনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুতর ক্ষতি হবে।” তিনি জানান, গত বছর ভিক্টোরিয়া প্রদেশে দীর্ঘ সময় লকডাউন চলেছিল। তারপর সিডনিতেই দেশের দীর্ঘতম লকডাউন হতে চলেছে। অলিভারের কথায়, “যত দীর্ঘদিন লকডাউন চলবে, অর্থনীতির তত বেশি ক্ষতি হবে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। ক্রেতারাও আগের মতো খরচ করবেন না। অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে দীর্ঘদিন লাগবে।”
প্রিমিয়ার বেরেজিক্লিয়ান বলেন, “গ্রেটার সিডনি অঞ্চলে লকডাউনের ফলে প্রতি সপ্তাহে ক্ষতি হচ্ছে ৬৩ কোটি ৭০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় তার পরিমাণ ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি।”