দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে আজ থেকেই শুরু হচ্ছে সর্বভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা (জয়েন্ট-এন্ট্রান্স মেইন)। আইআইটিগুলিতে ভর্তির জন্য মূল প্রবেশিকা পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে। চলবে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর অবধি। ডাক্তারিতে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা তথা নিট-ইউজি হবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর। করোনা আবহে সবরকম সুরক্ষাবিধি মেনেই পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা ভেবে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল একাধিক ছাত্র সংগঠন। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড চলে এসেছে। সেই অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডও করে ফেলেছেন কয়েক লক্ষ ছাত্রছাত্রী। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক বলেছিলেন, ১৭ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন। এর থেকেই প্রমাণিত পরীক্ষা দিতে কতটা মরিয়া পরীক্ষার্থীরা। তাই পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া আর সম্ভব নয়। বরং নির্ধারিত সময়সূচীতেই সব সুরক্ষাবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এ বছর জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষা দিচ্ছেন ৮ লাখ ৫৮ হাজার পরীক্ষার্থী, নিট পরীক্ষায় বসছেন ১৫ লাখ ৯৭ হাজার জন। পোখরিয়াল বলেছেন, পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য জয়েন্টে কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৭০ থেকে বাড়িয়ে ৬৬০ করা হয়েছে। নিট পরীক্ষার কেন্দ্র ২৫৪৬ থেকে বাড়িয়ে ৩৮৪২ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা তাঁদের সুযোগ সুবিধা মতোই পরীক্ষাকেন্দ্র বেছে নিতে পেরেছেন।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সব পরীক্ষার্থীদের মাস্ক ও গ্লাভস পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে নিজের জলের বোতল ও স্যানিটাইজারও আনতে হবে তাঁদের। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংয়ের নিয়ম মেনেই পরীক্ষাকেন্দ্রে বসানো হবে ছাত্রছাত্রীদের। পরীক্ষা যতক্ষণ না শেষ হচ্ছে ততক্ষণ কোনও পরীক্ষার্থী হলের বাইরে বের হতে পারবেন না। তবে কারও যদি শারীরিক সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে পরীক্ষকের অনুমতি নিয়ে বাইরে বের হতে পারবেন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই লাইন করে দাঁড়াতে হবে পরীক্ষার্থীদের। প্রত্যেকের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হবে। কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি মনে হলে তাঁর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেককে অ্যাডমিট কার্ড ও আধার কার্ড নিয়ে ঢুকতে হবে পরীক্ষার হলে।
কোভিড পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে পিটিশন দাখিল করেছিল ১১ জন পড়ুয়া। সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে নির্ধারিত দিনেই পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চ জানিয়েছিল, করোনা সংক্রমণের কারণে জীবন থমকে থাকবে না। স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণেই এমনিতেই ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ারের অনেক ক্ষতি হয়েছে। পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে তাদের আরও একটা বছর নষ্ট হবে। সেদিকটা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।