কমিশন সূত্রে এই পরিসংখ্যান জানা গিয়েছে। তবে জানিয়ে রাখা ভাল, এই পরিসংখ্যান চূড়ান্ত নয়। কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ভোটারের ফাইনাল নম্বর আরও বেশি হবে। তা ২০ লক্ষ ছাপিয়ে যেতে পারে।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোটার তালিকায় ( Sir Voter List) নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম জমা (Sir Form-Fill-up) দেওয়া যাবে। তারপর বেরোবে খসড়া তালিকা। তবে এখনও পর্যন্ত যা হিসাব তাতে ১৫ লক্ষ ৫৩ হাজার মৃত ভোটারকে (West Bengal SIR dead voters) চিহ্নিত করা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে এই পরিসংখ্যান জানা গিয়েছে। তবে জানিয়ে রাখা ভাল, এই পরিসংখ্যান চূড়ান্ত নয়।কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ভোটারের (Dead Voter) ফাইনাল নম্বর আরও বেশি হবে। তা ২০ লক্ষ ছাপিয়ে যেতে পারে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক তথা সিইও দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ ফর্ম বিলি (Form Distribution) করা হয়েছে। যার মধ্যে মোট ডিজিটাইজড হয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ। অর্থাৎ ৮৭ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজড হয়ে গেছে।
তবে কমিশন সূত্রে এদিন মৃত ভোটার (Fake Voter List) চিহ্নিত করার যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তা নজর কেড়েছে। শুধু তা নয়, এমনও ঘটনা রয়েছে যে বিএলও-রা (BLO) বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটারের খোঁজ পাননি। সেই সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষ ৬১ হাজার। আবার ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন, এমন সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৮ হাজার। পাশাপাশি ৫৮,১৬৪ জন ডুপ্লিকেট ভোটারের নামও পাওয়া গেছে।
এই পরিসংখ্যান বিহারের তুলনায় কম বলেই অনেকের মত। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এসআইআর (SIR) যেহেতু বিহার থেকে শুরু হয়, এবং ভোটের আগে খুব কম সময়ের মধ্যে তা শেষ হয়, তাই অনেকেই ভাল করে বুঝে উঠতে পারেননি। কিন্তু এসআইআর নিয়ে বাংলায় বিজেপি নেতারা (BJP Leader) গোড়ায় যেভাবে প্রচার করছিলেন, তাতে অনেকের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ঢুকে যায়। ফলে ফর্ম জমা দেওয়ার ব্যাপারে একটা হুড়োহুড়ি দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বুথ ও এলাকা ধরে ধরে ফর্ম ফিল-আপে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায় সে জন্য সক্রিয় তৃণমূল। তাই তুলনা করলে দেখা যাবে, তুলনায় কম ভোটারের নামই বাদ পড়ছে।
কোন জেলায় কত ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে, এদিন তাও জানিয়েছে কমিশন।
ঝাড়গ্রাম ৮৯.৩২ শতাংশ
পূর্ব বর্ধমান ৮৯.৩০ শতাংশ
পূর্ব মেদিনীপুর ৮৯.২৩ শতাংশ
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৮৪ শতাংশ
উত্তর ২৪ পরগনা ৭৯ শতাংশ
দক্ষিণ কলকাতা ৬৫ শতাংশ
উত্তর কলকাতা ৬১ শতাংশ
এর পাশাপাশি সিইও দফতর আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জানিয়েছে। অনলাইনে জমা ফর্ম ও হার্ডকপির (সরকারি স্বীকৃত বা ডিইও-র যাচাই করা) মধ্যে যদি কোনও মিসম্যাচ না থাকে তাহলে তেমন ভোটারদের হিয়ারিং-এর জন্য ডাকা হবে না। তবে এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনও প্রশ্ন উঠলে দায়বদ্ধ থাকবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও। তবে যদি এক্ষেত্রে মিসম্যাচ হয় তাহলে অবশ্যই হিয়ারিং এর জন্য ডাকা হবে। এই পুরো বিষয়টিই অনলাইনে ফর্ম ফিল-আপের ক্ষেত্রে।
তাছাড়া এমন বেশকিছু ঘটনা কমিশনের নজরে এসেছে যে কোনও ভোটারের নাম বিএলও অ্যাপে আপলোড করার সময় তার বাবার নাম অন্য কোনও বিধানসভায় অলরেডি অ্যাড হয়ে গেছে বলে দেখাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটার, বিএলও-কে সশরীরে ডেকে শুনানি করবেন সেই বিধানসভার ইআরও। এই মর্মে ইতিমধ্যেই সব জেলার ডিইও-দের অনুরোধ করা হয়েছে সিইও দফতরের পক্ষ থেকে।
ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তকরণ, তথ্য পরিবর্তন (ঠিকানা, বানান,বয়স ইত্যাদি) প্রভৃতির ক্ষেত্রে অফলাইন পরিষেবা বন্ধ করে দিচ্ছে কমিশন। অর্থাৎ ৯ ডিসেম্বরের পর থেকে ৬, ৭, ৮ নম্বর ফর্ম ফিল-আপ এর পুরো বিষয়টিই অনলাইন হবে।