SIR শুরু হতেই অন্য ছবি দেখছেন বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী ও পরিচালকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরের পর বছর বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট ঘরে আশ্রয় নেওয়া অনেক বাসিন্দারই সন্তানরা খবর নেননি। টাকা পাঠাননি। আজ হঠাৎ করেই তাঁদের খোঁজ নিচ্ছেন ছেলে-মেয়েরা।

শেষ আপডেট: 12 November 2025 12:37
বদলে গেছে সমাজের কাঠামো। বেড়েছে অনু পরিবার। সে পরিবারে এখন ব্রাত্য বৃদ্ধ বাবা-মা। তাই সংসারের জন্য সবটুকু দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এই মানুষদের অনেকেরই আশ্রয় ছোট হতে হতে এখন এসে ঠেকেছে বৃদ্ধাশ্রমের একচিলতে তক্তপোষে। অনেকে আবার স্বাধীনতার সুখ পেতে সংসার গড়েননি। একটা বয়সের পর তাঁরাও নিরাপত্তার ওম পেতে চলে আসেন বৃদ্ধাশ্রমে। নেহাত কপাল ভাল যাঁদের, বৃদ্ধাশ্রমে আসার পরেও তাঁদের খোঁজখবর রাখেন সন্তানরা বা সন্তানসম কেউ। কিন্তু তাঁদের সংখ্যা আর কতই বা! বেশিরভাগই যে সংসারে দাম না পেয়ে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া অভিমানী মানুষ। কে আর খোঁজ রাখে তাঁদের!
কিন্তু SIR শুরু হতেই অন্য ছবি দেখছেন বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী ও পরিচালকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরের পর বছর বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট ঘরে আশ্রয় নেওয়া অনেক বাসিন্দারই সন্তানরা খবর নেননি। টাকা পাঠাননি। আজ হঠাৎ করেই তাঁদের খোঁজ নিচ্ছেন ছেলে-মেয়েরা। কেউ ফোন করে, কেউ বা আবার সরাসরি চলে আসছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। কারণ, বাবা-মায়ের নাম যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে নিজের নামটাই তো হারিয়ে যাবে।
নদিয়ার একটি বৃদ্ধাশ্রমের সম্পাদক গৌরহরি সরকার বলেন, “এখানে প্রায় ৪০ জনের মতো আবাসিক আছেন। তাঁদের কেউ নদিয়া, বর্ধমান, এমনকি কলকাতা থেকেও এসেছেন। বেশিরভাগেরই সন্তানরা কোনও যোগাযোগ রাখতেন না। কিন্তু SIR চালু হতেই সেই নীরব ফোনগুলো আবার বেজে উঠছে। কেউ কেউ ছুটে ছুটে চলেও আসছেন। এতদিন অসুখবিসুখে খবর দিলেও দেখা পাওয়া যায়নি।”
পাঁচ বছর ধরে বৃদ্ধাশ্রমে কাজ করছেন রুমা দেবনাথ। তিনিও বলছেন, “আগে অনেকেই বাবা-মায়ের খবর নিতেন না। কিন্তু এখন SIR চালু হতেই হঠাৎ করে খোঁজ নিতে আসছেন, ফোন করছেন। যেন নতুন এক সম্পর্ক গড়ে উঠছে। তবে ঠ্যাকায় পড়ে। নিঃস্বার্থ নয়। প্রয়োজন মিটলে সবাই পালাবে।”
আশ্রমের প্রবীণ বাসিন্দা সুভাষ সাহা জানান, ছেলের বৌদের সঙ্গে খিটিমিটি লাগত। সেটা ভাল লাগত না। তাই সম্মান নিয়ে চলে এসেছেন বৃদ্ধাশ্রমে। আরেক বৃদ্ধ প্রশান্ত হালদার জানালেন, তিনি বিয়ে-থা করেননি। থাকতেন দাদা-বৌদির সঙ্গে। কিন্তু দাদা-বৌদি মারা যাওয়ার পর ভাইপো আর রাখতে চাননি তাঁকে। তাই সংসার ছেড়ে চলে এসেছেন বৃদ্ধাশ্রমে। তাও তো প্রাণাধিক সন্তানের মুখ দেখতে পারছেন, সে হোক না SIR এর প্রয়োজন পূরণের জন্য। এটা ভেবেই পরম শান্তি। না!কোনও অনুযোগ নেই তাঁদের। বরং 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে',বাবা-মায়ের সেই চিরন্তন প্রার্থনায় বদল আসেনি কোনও।