
শেষ আপডেট: 18 November 2019 18:30
চিনের জিয়াংসু প্রদেশের ইউক্সি পিপল’স হাসপাতালে ফুসফুসের সংক্রমণে মৃত এক ব্যক্তির এমন জ্বালাপোড়া ফুসফুসের ছবি সামনে এনে ডাক্তাররা বলেছেন, ‘‘সিগারেট পুড়িয়ে ছারখার করে ফুসফুস, ঠিক এভাবেই। এই ছবি দেখুন, আর সিগারেট খাওয়া ছাড়ুন।’’
৩০ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট করে সিগারেট লাগত ওই ব্যক্তির। এর বেশি তো বটেই, কম কখনও হত না। ডাক্তার চেন বলেছেন, ‘লাঙ পালমোনারি এম্ফিসেমা’তে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এই রোগে ফুসফুসে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হতে শুরু করে। ফুসফুস আকারে বাড়তে থাকে, জ্বালাপোড়ার মতো যন্ত্রণা শুরু হয়, শ্বাসের সমস্যা দেখা যায়। এই সংক্রমণ এতটাই ছড়িয়ে গিয়েছিল যে চিকিৎসা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাঁকে। এই অস্ত্রোপচারের ভিডিও সামনে এনে ডাক্তাররা বলেছেন, ‘‘এমন ঝলসে যাওয়া ফুসফুস দেখেও কি আর ধূমপানের ইচ্ছা হবে আপনাদের?’’
নেট সার্ফিংয়ে যাঁরা অভ্যস্ত তাঁদের কাছে এই তথ্যগুলো নতুন নয়। তবুও জেনে নিন একটা টান দেওয়ার পরে ঠিক কী কী ঢুকছে আপনার শরীরে। সিগারেটের উপাদানে আছে আর্সেনিক, টয়লেট ক্লিনারে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়া, কীটনাশক ডিডিটি, নেলপলিশ রিমুভার অ্যাসিটোন, ব্যাটারিতে ব্যবহৃত ক্যাডমিয়াম, নিকোটিন-সহ আরও প্রায় ৭০০০ বিষ!
সিগারেট ও তামাক সেবনকারীদের নিয়ে এক ন্যাশনাল সার্ভেতে জানা গেছে, ১০০ জন ধূমপায়ীর ৯৩ জনই ধূমপানের মারাত্মক দিক সম্পর্কে অবহিত। তাও দিন দিন বাড়ছে সিগারেটে সুখটান দেওয়ার এই অভ্যাস। পুরুষরা শুধু নন, পাল্লা দিয়ে এগিয়ে এসেছেন মহিলারাও। অ্যাসোচাম সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (Assocham Social Development Foundation) -এর সমীক্ষায় জানা গেছে, ভারতে প্রায় ৯ কোটি পুরুষ ও ১.৩ কোটি মহিলা ধূমপান করেন। ১৯৮০ সালে ৫৩ লক্ষ মহিলা ধূমপায়ী ছিলেন। ২০১২ সালে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.২৭ কোটিতে। ক্রমশ বাড়ছে মহিলা ধূমপায়ীর সংখ্যা।