পঞ্জাব সীমান্তে আবারও পাক ড্রোন! জঙ্গি ঘাঁটিতে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের চেষ্টা? জারি চূড়ান্ত সতর্কতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের আকাশসীমা পেরিয়ে পঞ্জাবের তরণ তারণে ঢুকে পড়া চারটি পাক ড্রোনের দুটিকে পাকড়াও করেছিল পঞ্জাব পুলিশ। বাকি দুটির খোঁজ চলছে। এর মধ্যেই ফের পঞ্জাব সীমান্তের ফিরোজপুরের কাছে সন্দেহজনক একটি ড্রোনকে ওড়াওড়ি করতে দেখা গেল। স
শেষ আপডেট: 7 October 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের আকাশসীমা পেরিয়ে পঞ্জাবের তরণ তারণে ঢুকে পড়া চারটি পাক ড্রোনের দুটিকে পাকড়াও করেছিল পঞ্জাব পুলিশ। বাকি দুটির খোঁজ চলছে। এর মধ্যেই ফের পঞ্জাব সীমান্তের ফিরোজপুরের কাছে সন্দেহজনক একটি ড্রোনকে ওড়াওড়ি করতে দেখা গেল। সোমবার রাতে ড্রোনটি ভারতের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে বলেও সেনা সূত্রে খবর। সীমান্তে ফের ড্রোন দেখে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ ও পঞ্জাব পুলিশ। ফের আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের ছক চলছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পঞ্জাব পুলিশের ডেপুটি সুপার সুখবিন্দর সিং জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে প্রথম ড্রোনটিকে দেখা যায় রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১০টা ৪০ নাগাদ। তারপর ফিরোজপুরের হুসেনওয়ালা এলাকায় এইচ কে টাওয়ারের কাছে একাধিক বার ওড়াওড়ি করতে দেখা যায় ড্রোনটিকে। বিএসএফ সূত্রে খবর, রাত ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ ভারতের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল ড্রোনটি। যদিও সন্দেহজনক কোনও কিছুই এখনও মেলেনি বলে দাবি বিএসএফের। গতকাল রাত থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনা ও পঞ্জাব পুলিশের বিশেষ দল।
সেপ্টেম্বর মাসের গোড়ার দিকে পঞ্জাব সীমান্তে একটি ড্রোন উদ্ধার হয়। ওই ড্রোনে চাপিয়ে পাকিস্তান থেকে পঞ্জাবের খলিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স (কেজেডএফ) নামে খনিস্তানপন্থী একটি জঙ্গি সংগঠনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার হচ্ছিল বলে জানায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। গত মাসের শেষ সপ্তাহে আরও একটি পুড়ে যাওয়া ড্রোন উদ্ধার হয়। তাতেও একই কায়দায় অস্ত্র, নকল টাকা পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, বিপুল সংখ্যক এ কে ৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, স্যাটেলাইট ফোন এবং যুদ্ধের অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে চারটি ড্রোন ঢুকেছিল পঞ্জাবে। রেডারে যাতে ধরা না পড়ে, সেজন্য খুব নিচু দিয়ে উড়ে গিয়েছে সেগুলি। পাঞ্জাব পুলিশের এক উচ্চপদস্থ অফিসার জানিয়েছেন, ড্রোনগুলি ১০ বার উড়ে এসে পাঞ্জাবে অস্ত্রশস্ত্র ফেলে গিয়েছে। কিন্তু একবারও তারা রেডারে ধরা পড়েনি। তারা যে জিনিসগুলি ফেলে গিয়েছে, তার মধ্যে আছে পাঁচটি স্যাটেলাইট ফোন। তা থেকে মনে হয়, ওইসব অস্ত্রশস্ত্র জম্মু-কাশ্মীরে পাঠানো হচ্ছিল।
তরণতারণ থেকে ইতিমধ্যেই চার জঙ্গিকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে পুলিশ। তাদের থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫টি একে-৪৭ রাইফেল, পিস্তল, স্যাটেলাইট ফোন, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং কয়েক লক্ষ টাকার নকল নোট। ধৃত জঙ্গিরা নিষিদ্ধ খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স নামে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত আগেই জানিয়েছিলেন, পঞ্জাবে ফের অশান্তি ও হিংসা ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। বহিরাগত শক্তির মদতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানেও খালিস্তানপন্থী জঙ্গিরা সক্রিয়। দল খালসা ইন্টারন্যাশনাল (ডিকেআই) নামে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গড়ে পাকিস্তান থেকে কাজ চালাচ্ছে তারা। পঞ্জাবকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে পৃথক খালিস্তান তৈরির লক্ষ্যে খলিস্তান টেরর ফোর্স (কেটিএফ)এবং ডিকেআই হাত মিলিয়ে কাজ করছে। এই সংগঠনকে মদত দিচ্ছে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং অন্যান্য অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলো।
