দ্য ওয়াল ব্যুরো: সহপাঠীকে রোজ হেনস্থা করত ক্লাসসুদ্ধ সকলে। নানা রকম মজা, হাসি, ঠাট্টা, ইয়ার্কিতে সিঁটিয়ে থাকত সে। উত্তর করার চেষ্টা করলে, জুটত আরও বেশি অপমান। কখনও গায়ে হাত দিয়েও কথা বলত হেনস্থাকারীরা। অপরাধ, মাইকেল টড নামের সেই ছেলেটি প্রায় রোজ একই জামা পরে স্কুলে আসে।
প্রতি দিন এই অপমানে সকলে মজা পেলেও, এই অন্যায় সহ্য করতে পারেনি দু'জন। ক্রিস্টোফার গ্রাহাম এবং অ্যান্টওয়াল গ্যারেট। অথচ প্রতিবাদ করেও যে কিছু হবে না, জানত তারা। তাই নিজেদের জামা, কাপড়, জুতো, ব্যাগ দিয়ে, নতুন করে সাজিয়ে দিল তাদের বন্ধুর ওয়ার্ড্রোব। যাতে রোজ একই পোশাক পরে আসতে না হয় তাকে।
আমেরিকার টেনেসের মেমফিস শহরের একটি হাইস্কুলের এই ঘটনায় আর্দ্র হয়ে গিয়েছে নেটিজেনদের মন। বন্ধুকে জামাকাপড় দেওয়ার একটি ভিডিও-ও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে মাইকেল। তার কাছে অনেকগুলি ব্যাগ নিয়ে এসেছে দুই কিশোর, ক্রিস্টোফার এবং অ্যান্টওয়ান। তাকে বার করে দিচ্ছে জামা, জুতো।
দেখুন সেই ভিডিও।
https://www.facebook.com/CnationJB/videos/2329200857408138/
মাইকেলের কথায়, "আমি সারা জীবন ধরেই হেনস্থার শিকার হয়েছি। ছোটবেলায় বুঝতাম না, এখন বুঝি। আমার পরিবার খুবই গরিব। আমার মা প্রতি বছর আমায় নতুন জামা কিনে দিতেও পারে না। আমি তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাচ্ছি, তাই রোজ রোজ নতুন জামা কেনাও সম্ভব নয়।"
ক্রিস্টোফার বলে, "আমি রোজ দেখতাম,ওর সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। সবাই ওকে নিয়ে হাসছে। খুব রাগ হতো আমার, কিন্তু কিছু করতে পারতাম না। আমি জানি, ওর হয়ে কিছু বলতে গেলে সবাই আমায় নিয়েও হাসবে। তাই সেটা পারিনি। তখন মনে হয়েছিল, এমন কিছু করতে হবে, যাতে ওকে আর অপমানের পাত্র হতে না হয়।"
এর পরেই প্রিয় বন্ধু অ্যান্টওয়ানকে সব জানায় ক্রিস্টোফার। বলে, সে কিছু করতে চায়, মাইকেলকে রোজ রোজ অপমানিত হওয়া থেকে বাঁচাতে। তখনই তারা দু'জনে মিলে ঠিক করে, নিজেদের তো অনেক জামাকাপড় আছে, তা থেকেই মাইকেলের জন্য কিছু দেওয়া যায়।
যেমন ভাবা তেমন কাজ। নিজেদের ওয়ার্ড্রোব উপুড় করে ফেলে দুই বন্ধু। কিন্তু বন্ধুকে উপহার কি পুরনো জামা দেওয়া যায়? তাই মাকেলের সাইজ়ের নতুন জামাকাপড় সেখান থেকে খুঁজে খুঁজে বার করে তারা। সব গুছিয়ে প্যাক করে স্কুলে নিয়ে গিয়ে, তুলে দেয় মাইকেলের হাতে।