রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল শান্তনুকে ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছিল। কিন্তু সোমবার সেই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এই রায়ের পরই সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সুদীপ্ত রায়কে চরম কটাক্ষ করেন।

শান্তনু সেন এবং সুদীপ্ত রায়
শেষ আপডেট: 7 July 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে ভুয়ো ডিগ্রি বিতর্কে জড়িয়েছেন চিকিৎসক তথা বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন (Santanu Sen) তা থেকে আপাতত তাঁকে স্বস্তি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল (State Medical Council) শান্তনুকে ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছিল। কিন্তু সোমবার সেই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এই রায়ের পরই সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সুদীপ্ত রায়কে (Sudipta Roy) চরম কটাক্ষ করেন। বলেন, 'তাঁর মানসিক সুস্থতা কামনা করছি। ফুলের তোড়া পাঠাব।'
রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন না করিয়েই ‘এফআরসিপি গ্লাসগো’ নামে একটি বিদেশি ‘ডিগ্রি’ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল শান্তনুর বিরুদ্ধে। গত মাসেই তা নিয়ে শান্তনুকে নোটিস ধরিয়েছিল কাউন্সিল। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে তলব করা হয়েছিল। এর পরেই কাউন্সিল শান্তনুর ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশন দু’বছরের জন্য বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল জানিয়ে দিয়েছিল, নামের পাশে আর ‘ডাক্তার’ লিখতে পারবেন না শান্তনু সেন! পারবেন না প্রেসক্রিপশন লিখতেও! কিন্তু এরপর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই চিকিৎসক নেতা। সোমবার আদালত জানিয়ে দিয়েছে, লেটার হেডে শান্তনু ডিপ্লোমা ফেলশিপ হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে পারবেন। তারপর সাংবাদিক বৈঠক করে শান্তনু নিশানায় নিলেন সুদীপ্ত রায়কে।
রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের বক্তব্য ছিল, 'ভুয়ো ডিগ্রি সংক্রান্ত অভিযোগ সত্যি বলেই প্রমাণিত হয়েছে। কাউন্সিলকে না জানিয়ে ওই ডিগ্রি ব্যবহার করাটা পুরোপুরি নিয়মবিরুদ্ধ।' কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর তাঁকে উদ্দেশ্য করে শান্তনু বলেছেন, ''আরও একবার অনৈতিক, বেআইনি, দুর্নীতিগ্রস্ত, প্রতিহিংসাপরায়ণ মানুষটি আদালতের কাছে যোগ্য জবাব পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি যে ধরনের কাজ করে চলেছেন তার জন্য তাঁর শারীরিক তো বটেই, মানসিক সুস্থতা কামনা করি। এর জন্য তাঁকে ফুলের তোড়াও পাঠাব।''
শান্তনুর কটাক্ষ, কোথাও বয়সের ভারে বা অজ্ঞতার কারণে এইসব কাজ করে ফেলছেন সুদীপ্ত রায়। তাই গোলাপ ফুলের তোড়া পাঠিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তা জানাতে চাই। পাশপাশি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, ''তাঁরা ক্ষমতা থাকলে সাংবাদিক বৈঠক করে বলুন যে এই রায় মানছেন না। তাহলে বুঝব।'' শান্তনু মনে করেন, প্রতিহিংসামূলক কাজ করতে গিয়ে আদতে সুদীপ্ত রায় সীমা লঙ্ঘন করে গেছেন।