.jpeg)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 February 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নজিরবিহীনই বটে!
তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের 'হাত' থেকে আপাত অরাজনৈতিক শোভন চট্টোপাধ্যায়কে (কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী) 'বাঁচাতে' আদালতে ম্যারাথন সওয়াল করলেন তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু সওয়ালই নয়, এজলাসে রত্নার বিরুদ্ধে প্রভাবশালী তত্ত্ব এনে শোভনকে অকারণ হয়রান করার অভিযোগও আনলেন। কাকতালীয়ভাবে কল্যাণ নিজেও তৃণমূলের একজন জনপ্রতিনিধি।
স্বভাবতই, রত্নার বিরুদ্ধে কল্যাণের আনা প্রভাবশালী তত্ত্ব নিয়ে এদিন আদালতের বাইরেও বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিন আদালতে শোভনের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূলের সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, "সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেছিলেন কোনমতেই শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ডিভোর্স দেবেন না। যে কারণেই এইভাবে নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়াকে বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রভাবশালী না হলে এটা কীভাবে সম্ভব?"
গত বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে গিয়েছিলেন একদা মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহভাজন শোভন থুড়ি কানন। পরে অবশ্য বিজেপি থেকেও বেরিয়ে আসেন তিনি। তবে এই মুহূর্তে শোভন কোনও রাজনৈতিক দলে নেই। সেক্ষেত্রে শোভনের হয়ে মামলা লড়তে গিয়ে যেভাবে দলের বিধায়ক রত্নার বিরুদ্ধে কল্যাণ আক্রমণাত্মক হলেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গত প্রায় সাত বছর ধরে আদালতে ডিভোর্স মামলা চলছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় বনাম তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের। আলিপুর আদালত হয়ে সম্প্রতি মামলাটি এসেছে কলকাতা হাইকোর্টে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বর অনুমতি ছাড়া কল্যাণ শোভনের হয়ে কিংবা বলা ভাল দলের বিধায়ক রত্নার বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন, এমনটা কেউই মনে করছেন না। ফলে গোটা বিষয়টিকে অনেকেই দুয়ে দুয়ে চার করে দেখতে চাইছেন। তাঁদের মতে, রত্নার হাত থেকে শোভনকে বাঁচানোর গুরু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন কল্যাণ।
এদিন রত্নার মুখের ভাষা নিয়েও বিচারপতির দৃষ্টি আকষর্ণ করেন কল্যাণ। অন্যদিকে আপাত অরাজনৈতিক শোভনকে 'হি ইজ মোর কালারফুল' বলেও সম্বোধন করেছেন তিনি। আদালতের কাছে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করে শোভনকে রেহাই দেওয়ার আর্জিও জানান তিনি।
দু'পক্ষের সওয়াল শেষে আদালত জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার রায় দেওয়া হবে। যে কারণে ৩ মার্চ পর্যন্ত নিম্ন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার স্থগিতাদেশ থাকছে।